‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বাবার সন্তান’ দাবি, পরে ভুল স্বীকার করলেন জামায়াত-সমর্থিত এমপি মুনতাকিম
হলফনামায় বাবা-মা জীবিত, সংসদে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে শুরু বিতর্
দৈনিক জীবন যাত্রা ডেস্ক
জাতীয় সংসদে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বাবার সন্তান’ হিসেবে দাবি করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের জামায়াত-সমর্থিত সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। পরে তিনি দাবি করেন, অসুস্থতার কারণে সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভুল তথ্য দিয়েছেন।
সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্দুল মুনতাকিম বলেন, তার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। তিনি জানান, তার বাবাদের সাত ভাইয়ের মধ্যে চারজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, দাদাদের মধ্যে ১১ জন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন এবং তার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।
তবে মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি এমন বক্তব্য দেন, যা থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে তার বাবা ও দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। এ বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
নির্বাচনি হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি, যা মুক্তিযুদ্ধের প্রায় এক দশক পর। একই সঙ্গে হলফনামায় তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগমকে জীবিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কাদের সৈয়দী ও মোসলমান বেগম বর্তমানে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে বসবাস করছেন।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম বলেন, সংসদ অধিবেশন চলাকালে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং প্রচণ্ড মাথাব্যথায় ভুগছিলেন। সে কারণে বক্তব্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “আসলে আমার বাবা জীবিত আছেন। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন আমার দাদা ও চাচা। সংসদে ভুল কিছু বলে থাকলে দেশের মানুষের কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।সংক্ষিপ্ত শিরোনাম:
‘শহীদ বাবার সন্তান’ দাবি করে বিতর্কে এমপি মুনতাকিম, পরে ক্ষমা প্রার্থনা