আনোয়ারায় নিজ বাড়িতে মা-মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, আহত ৫ বছরের শিশু
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে মা ও মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে পরিবারের ৫ বছর বয়সী এক শিশু।
শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন চেনামতি বড়ুয়া পাড়ার বাসিন্দা সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া এবং তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া। আহত শিশুটির নাম পিয়াস বড়ুয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে একটি বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে ঘরের দরজার সামনে এনি বড়ুয়া ও তার ছেলে পিয়াসকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার মরদেহ দেখতে পান তারা।
প্রতিবেশীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই এনি বড়ুয়ার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়।
নিহতের প্রতিবেশী সুরভী বড়ুয়া বলেন, “চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখি মা ও ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে মেয়েটির মরদেহ দেখতে পাই। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।”
এদিকে নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি চট্টগ্রাম শহরে তার কর্মস্থলে ছিলেন। স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বাড়িতে এসে স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। এছাড়া মৃত্যুর আগে তার স্ত্রীও লিমন বড়ুয়ার নাম উল্লেখ করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কাউকে দায়ী করা হয়নি।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে সবদিক গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।