জাহাঙ্গীরনগরে ফের নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের চাপে অভিযুক্ত বহিষ্কার ও পুলিশের কাছে সোপর্দ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক নিপীড়নের অভিযোগ সামনে আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। আগের একটি হেনস্তার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও এক নারী শিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে বঙ্গবাজারগামী একটি বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. হাসানুর রহমানের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীর অজান্তে ছবি তোলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি ধরা পড়ার পর অভিযুক্ত তা অস্বীকার করেন এবং নিজের মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে গিয়ে ভুক্তভোগীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বাসে থাকা অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করেন।
পরে অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে সোপর্দ করা হলে প্রক্টরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনাটি ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটেছে। তাই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশে অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা বাসটি ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনেন এবং প্রশাসনের কাছে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয় এবং পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন, হেনস্তা ও হয়রানির ঘটনা নতুন নয়। হল, বাস, ক্যাম্পাস কিংবা অনলাইন—বিভিন্ন পরিসরে এমন অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে অনীহা দেখা যায় বলে দাবি তাদের।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের একাংশের বক্তব্য, প্রশাসনের সক্রিয় উদ্যোগের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত চাপ ও আন্দোলনের কারণেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তাদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক উদাসীনতা নিপীড়কদের উৎসাহিত করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে ধীরে ধীরে ‘নিপীড়কদের অভয়ারণ্যে’ পরিণত করছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।