খুলনায় সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের পৃথক সফল অভিযান: মাদক মামলায় ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্টার:
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ পৃথক দুটি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে মাদক মামলায় এক বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। অপর এক বিশেষ অভিযানে আবাসিক এলাকার ফ্ল্যাটে ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণা করে আসা সংঘবদ্ধ ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের নারীসহ ৬ সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের চৌকস দল এ সফল অভিযান দুটি পরিচালনা করে।
মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার:
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল থানাধীন বয়রা মহিলা কলেজ মোড় এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে শেখ রবিউল ইসলাম বাপ্পী (২৬) নামের এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে। বাপ্পী বড় বয়রা মহিলা কলেজ মোড় এলাকার শেখ আব্দুর রহমান লালুর ছেলে।
পুলিশ জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে খালিশপুর থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারার একটি মামলায় (মামলা নং-১৬/১৭০, তারিখ: ২৪ জুলাই ২০২২) বিজ্ঞ আদালত দোষী সাব্যস্ত করে ০১ (এক) বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর আজ তাঁকে গ্রেপ্তার করে যথাযথ পুলিশ পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ভাড়াবাসা থেকে ‘হানিট্র্যাপ’ প্রতারক চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার:
অপরদিকে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের অপর একটি দল থানাধীন সোনাডাঙ্গা ২য় আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর রোডের ৩৭৭ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি বহুতল ভবনের ৫ম তলায় বিশেষ অভিযান চালায়। চক্রটির মূল হোতা মোছাঃ রেখার ভাড়া নেওয়া ওই ফ্ল্যাট থেকে ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি ও ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের সক্রিয় ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
১. মোছাঃ রেখা (৪০), পিতা- শেখ জালাল উদ্দিন, স্বামী- মুরাদ ইসলাম;
২. তামিম হাসান ওরফে রবিন (২২), পিতা- মুরাদুল ইসলাম;
৩. শেখ আকাশ (২১), পিতা- কামরুজ্জামান শেখ, বর্তমান ঠিকানা: তালতলা, অভয়নগর, যশোর;
৪. রাকিবুল হাওলাদার (১৯), পিতা- কবির হাওলাদার;
৫. আঞ্জুমান আরা বেগম (৬০), স্বামী- মৃত শেখ জালাল উদ্দিন; এবং
৬. শেখ মনির ওরফে টুটুল (৩৮), পিতা- শেখ জালাল উদ্দিন (বর্তমানে পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন)।
গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশের স্থায়ী ঠিকানা বাগেরহাট সদর উপজেলার কালিয়া ডিমা ডাক্তার বাড়ি ও করপাড়া এলাকায় হলেও তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সোনাডাঙ্গা ২য় আবাসিক এলাকার ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে প্রতারণা ও হানিট্র্যাপ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করতে পুলিশি নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী