অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম: রুহুল কবির রিজভী
রাজনৈতিক প্রতিবেদক:
বিশ্বের অন্যান্য দেশের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনও অনেক কম রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যৌথসভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের চিত্র তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিশ্বের বহু দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম নির্ধারণ করা আছে। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও মূল্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেও সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে সরকার জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে।
মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম কিছুটা সমন্বয় করার পরও সরকারকে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতি লিটার ডিজেল কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ২৫০ টাকা; ফলে দাম সমন্বয়ের পরও লিটারপ্রতি সরকারকে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান বহন করতে হবে। বিশ্বব্যাপী এই সংকটের মধ্যেও দেশের জ্বালানি সমস্যা নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গেই কাজ করে যাচ্ছে।
দেশে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ তুলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম অরাজকতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটা বিভিন্ন পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পেছনে পতিত স্বৈরাচারের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অপতৎপরতা সম্পর্কে দেশবাসী ও দলের সমর্থকরা পুরোপুরি সচেতন রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধীদের কাছ থেকে বাস্তবধর্মী ও দায়িত্বশীল সমাধানের প্রস্তাব প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিএনপি ও সরকারের বিরুদ্ধে যে ধরনের ভাষা ও আচরণ ব্যবহার করা হয়েছে, তা কখনোই কাম্য নয়। জনগণের স্বার্থে নেওয়া উদ্যোগগুলোকে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে রিজভী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের দোসররা এখনও প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থেকে ভেতর থেকেই স্যাবোটেজ করার চক্রান্ত করছে। গোপন কক্ষে বসে কোনো একটি পক্ষ পরাজিত সেই অপশক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রবল সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী