স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যা: ‘৯৯৯’-এ ফোন করে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
ক্রাইম রিপোর্টার / ঢাকা: রাজধানীর সবুজবাগে পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জেরে নিজ স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের পর নিজেই ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’-এ কল করে খুনের কথা স্বীকার ও পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন অভিযুক্ত স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৪০)।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১২টায় সবুজবাগ থানাধীন নন্দীপাড়ার বড় মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে এই রোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ দেন অভিযুক্ত নারী।
ঘটনার বিবরণ ও ৯৯৯-এর তাৎক্ষণিক তৎপরতা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে রেহেনা আক্তার নামের এক নারী ৯৯৯ নম্বরে কল করে জানান, আগের দিন রাতে তিনি তাঁর স্বামী মাহফুজুর রহমানকে (৪০) খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন। এরপর ঘুমন্ত অবস্থায় মাথায় শক্ত ইট দিয়ে উপুর্যুপরি আঘাত করে তাঁকে হত্যা করেন।
৯৯৯ কল সেন্টারে তাৎক্ষণিকভাবে কলটি গ্রহণ করেন কনস্টেবল আরিফ হোসেন। এরপর ৯৯৯-এর পুলিশ ডিসপ্যাচার এসআই আওলাদ হোসেন বিষয়টি সবুজবাগ থানাকে জরুরি ভিত্তিতে অবহিত করেন এবং সার্বক্ষণিক সমন্বয় করেন।
পরকীয়ার জেরে হত্যাকাণ্ড ও গ্রেপ্তার
খবর পেয়ে সবুজবাগ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত নন্দীপাড়ার ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করার পাশাপাশি অভিযুক্ত স্ত্রী রেহেনা আক্তারকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত নারী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি এবং স্বামী মাহফুজুর রহমান একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত থাকায় ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তিনি এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পথ বেছে নেন।
সবুজবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
দৈনিক জীবনযাত্রা