কাউনিয়ায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অব্যয়িত ৯৯ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত, হতাশা স্থানীয় কৃষকদের
স্টাফ রিপোর্টার। দৈনিক জীবন যাএা।
বৈরী আবহাওয়া ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় রংপুরের কাউনিয়ায় খালের একাংশ পুনঃখনন প্রকল্পের অব্যয়িত ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। স্বচ্ছতা ও নিয়ম রক্ষায় অর্থ জমা দেওয়ার বিষয়টি শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) নিশ্চিত করেছেন কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে অনাকাঙ্ক্ষিত জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্দেশ্যে বিশেষ এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের অধীনে কুর্শা ইউনিয়নের সিঙ্গামারি দোলায় ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং হারাগাছ ইউনিয়নের ধুম নদীতে ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার মোট প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। গত ১২ মে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন।
পরবর্তীতে কাজের প্রকৃত অগ্রগতি অনুসারে শ্রমিকদের মজুরি, খনন পরিচালনা, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবহন খাতসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৭ টাকা সরকারি নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
তবে প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ। কৃষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পলি পড়ে ভরাট হয়ে থাকা এই খালটি পুরোপুরি খনন করা সম্ভব হলে বর্ষার মৌসুমে আবাদি জমির জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচসুবিধা অনেকাংশে বাড়ত।
কুর্শা ইউনিয়নের সিঙ্গামারি এলাকার কৃষক করিম মিয়া আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “খাল খনন দেখি মনে করছিনো এবার হামার দুঃখের দিন শেষ। আর ফসল বন্যাত ডুববার নয়। কিন্তু কাজ শেষ না করিয়ায় টাকা ফেরত দেইল। হামার দুঃখ কষ্ট কেউ দেখে নাহ।”
প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেজবাহুর রহমান বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। সময়সীমার মধ্যে কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের স্বার্থেই অব্যয়িত ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৭ টাকা নিয়ম মেনে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”
বিষয়টি নিশ্চিত করে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা জানান, “টানা অতিবৃষ্টির ফলে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে খননকাজ পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ করা সম্ভব হয়নি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মেয়াদের অব্যয়িত টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় থেকে নতুন বরাদ্দ ও দিকনির্দেশনা পাওয়া গেলে আগামী শুকনো মৌসুমে খালের অবশিষ্টাংশের কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী।