মাতারবাড়ীতে শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলীদের পরিচালনায় সন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন
দৈনিক জীবনযাত্রা ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে অবস্থিত ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মহা-উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (০৯ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্প ব্রিফিং ও শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলীদের প্রশংসা
সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে কর্মকর্তা-প্রকৌশলীদের কাছ থেকে পাওয়ার প্ল্যান্টের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিচালন সক্ষমতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়াদি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন।
ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন, জাইকার (JICA) ঋণ সহায়তায় নির্মিত আধুনিক Ultra-Supercritical প্রযুক্তির এই ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিশালাকার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী দেশীয় প্রকৌশলী ও কর্মীদের দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং উৎসাহিত করেন। পরিদর্শন স্মারক হিসেবে তিনি প্রাঙ্গণে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন।
প্রস্তাবিত সৌর বিদ্যুৎ, এলএনজি টার্মিনাল ও গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন
ব্রিফিং শেষে প্রধানমন্ত্রী সরেজমিনে প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থান ঘুরে দেখেন:
সৌর বিদ্যুৎ ও পেট্রোকেমিক্যাল এলাকা: তিনি প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন। একই সাথে সেখানে প্রস্তাবিত এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প ও নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত জায়গাগুলো ঘুরে দেখেন।
কোল জেটি ও সমুদ্রবন্দর: প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কোল জেটি পরিদর্শনে যান। সেখান থেকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল এবং ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত স্থানসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন।
দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও দিকনির্দেশনা
পরিদর্শনকালে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার, স্বচ্ছতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বৈচিত্র্যময় জ্বালানি পরিকল্পনার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৃহৎ অবকাঠামো পরিচালনায় দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে।”
সফরসঙ্গীবৃন্দ
প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ মাতারবাড়ী সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং বিশেষ রাজনৈতিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
পরিদর্শন কর্মসূচী সফলভাবে সম্পন্ন করে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী ত্যাগ করেন।