খাজাঞ্চি ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া: চেয়ারম্যান প্রার্থী কাওসার আহমদের ব্যাপক গণসংযোগ
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী | সিলেট প্রতিনিধি, দৈনিক জীবনযাত্রা
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ২ নম্বর খাজাঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক কাওসার আহমদ।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে পবিত্র ওমরাহ হজ পালন শেষে তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে না গিয়ে সরাসরি বাংলাদেশে চলে আসেন। দেশে ফিরেই নিজ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় শুরু করেন।
৮২টি গ্রাম নিয়ে গঠিত ২ নম্বর খাজাঞ্চি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে ভোটারদের সুখ-দুঃখের খোঁজ নিচ্ছেন কাওসার আহমদ। বিশেষ করে দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা করছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু নির্বাচনকে সামনে রেখেই নয়—গত প্রায় এক বছর ধরেই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন কাওসার আহমদ। ঈদসহ নানা উৎসবে পোস্টার, ফেস্টুন ও শুভেচ্ছা বার্তার মাধ্যমে তিনি ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এদিকে, এখনো নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি বা তফসিল ঘোষণা করা না হলেও আগামী অক্টোবর ২০২৬-এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাকে ঘিরে খাজাঞ্চি ইউনিয়নের গ্রামে-গঞ্জে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমে কুশল বিনিময় ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন।
বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কাওসার আহমদ তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং প্রবাস জীবনের অধিকাংশ সময় দলীয় কর্মকাণ্ড ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
সাংবাদিকদের কাওসার আহমদ বলেন, “ঐতিহ্যবাহী খাজাঞ্চি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সেবা করার লক্ষ্য নিয়েই আমি প্রবাস ছেড়ে দেশে এসেছি। দল এবং সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ আমাকে সবুজ সংকেত ও মনোনয়ন দিলে আমি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। নির্বাচিত হলে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে খাজাঞ্চি ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও রোল মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলব।”
দলীয় মনোনয়ন প্রতিযোগিতা নিয়ে তিনি খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি জানান, একই দল বিএনপি থেকে তিনিসহ মোট পাঁচজন সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমানে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
তবে দলীয় শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে কাওসার আহমদ বলেন, “দল যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে, আমি সেই সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেব। আমি দলের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে নই। প্রার্থী যেই হোক, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দলের প্রার্থীর বিজয়ে কাজ করব।”
নির্বাচনী প্রক্রিয়া সামনে রেখে খাজাঞ্চি ইউনিয়নের হাট-বাজার ও চায়ের দোকানগুলোতে এখন তুঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে নানা সমীকরণ ও আলোচনা। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং দলগুলোর প্রতীক বরাদ্দের পরই মাঠের মূল চিত্র স্পষ্ট হবে। তবে কাওসার আহমদসহ সম্ভাব্য প্রাক-তফসিল প্রচারণায় ইতোমধ্যেই সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো খাজাঞ্চি ইউনিয়ন। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হবে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।
এস এম সোহাগ ফরাজী