ভোলায় ইসলামী আন্দোলন নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল: পদ স্থগিত, ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
স্টাফ রিপোর্টার:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা দক্ষিণ জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্বাস উদ্দিনের সকল সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা শাখা।
রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) ভোলা দক্ষিণ জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যে জানা গেছে, সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি ভিডিও ক্লিপে মাওলানা আব্বাস উদ্দিনকে এক নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে আপত্তিকর অবস্থায় কথা বলতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি নেটদুনিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ভোলাজুড়ে তীব্র বিতর্ক, আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশেষ করে, অভিযুক্ত আব্বাস উদ্দিন চরফ্যাশন এলাকার একটি কওমি মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ ও ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে গভীর উদ্বেগ দেখা দেয়।
মাওলানা আব্বাস উদ্দিন পূর্বে ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির বিষয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করে তিনি নিজের পক্ষে দাবি করেছেন, ভিডিওটি বেশ কয়েক মাস আগের এবং ভিডিও কলে থাকা নারীটি তাঁরই বিবাহিত স্ত্রী।
তাঁর ভাষ্যমতে, ভিডিওটি তাঁর নিজস্ব মুঠোফোনেই সংরক্ষিত ছিল। সম্প্রতি ফোনটি হারিয়ে যাওয়ার পর একটি কুচক্রী মহল অসৎ উদ্দেশ্যে সেটি সংগ্রহ করে সামাজিকভাবে ও রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করতে অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়েছে। তবে মুঠোফোনে এ ধরনের অতিসংবেদনশীল ভিডিও রাখা নিজের অসতর্কতা ছিল বলে স্বীকার করেন তিনি। যদিও তাঁর এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, দলীয় আদর্শ, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার প্রশ্নে সংগঠন কোনো প্রকার আপস করবে না।
তিনি জানান, ভোলা দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর কামাল উদ্দিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত অনুসন্ধান শেষে কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন। তদন্তে কোনো নৈতিক স্খলন বা দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক বহিষ্কারাদেশসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত মাওলানা আব্বাস উদ্দিনের দলীয় সব সাংগঠনিক পদ ও কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে দলীয় সূত্র।
এস এম সোহাগ ফরাজী