ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুরপাড়ের ঝোপ থেকে শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুরপাড়ের ঝোপ থেকে সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার একটি গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিষ্পাপ এই মাদ্রাসাছাত্রীর করুণ পরিণতিতে পরিবারজুড়ে চলছে বুকফাটা আর্তনাদ; এলাকায় বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও শোকের আবহ।
নিহত শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। দুই বোনের মধ্যে সে ছিল বড়। তার বাবা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি বেকারিতে শ্রমিকের কাজ করেন। বাড়িতে মায়ের কাছেই দুই বোন থাকত।
পুলিশ ও শিশুটির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিজ বাড়ি থেকে মাত্র ১০ মিনিটের হাঁটা দূরত্বে শিশুটির মামার বাড়ি। গত শনিবার সকাল আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে সে মামার বাড়ি থেকে নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর শিশুটির মা মেয়ের খোঁজে ভাইয়ের বাড়িতে আসেন। তখনই স্বজনরা বুঝতে পারেন শিশুটি এখনো নিজ বাড়িতে পৌঁছায়নি। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ছবিসহ পোস্ট করা হয়। কোনো কূল-কিনারা না পেয়ে পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে নবীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের দুই দিন পর সোমবার বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে মাত্র দুই মিনিট হাঁটা দূরত্বের একটি বড় বাড়ির পুকুরপাড়ের ঝোপে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। ততক্ষণে শিশুটির মরদেহ অর্ধগলিত অবস্থায় পৌঁছে যায় এবং মুখমণ্ডল কালো বর্ণ ধারণ করে। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে নবীনগর থানা পুলিশ দ্রুত এসে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করে।
নিহত শিশুর পিতা ঢাকায় থেকে খবর পেয়ে ছুটে আসেন। সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাঁর নিষ্পাপ মেয়েকে কোনো এক বা একাধিক দুর্বৃত্ত নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ ঝোপে ফেলে রেখেছে। তিনি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শিশুটির মামা জানান, “শনিবার সকালে আমাদের বাড়ি থেকেই ও বের হয়েছিল। কারও সঙ্গে আমার বোন কিংবা ভগ্নিপতির ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা ছিল না। কেন এবং কারা এই ফুটফুটে শিশুটির সঙ্গে এমন নৃশংসতা চালাল, তা আমরা কোনোভাবেই বুঝতে পারছি না।”
মরদেহ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী জানান, শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ জোর তদন্ত শুরু করেছে। শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে নাকি মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এস এম সোহাগ ফরাজী