জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বরিশাল মহানগর জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল
স্টাফ রিপোর্ট:
জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরিশাল মহানগরী শাখা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় নগরীর ঐতিহাসিক টাউন হল চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগরী আমীর মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মহানগরীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মাহমুদ হোসাইন দুলাল ও সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, “জনগণের প্রত্যাশা ও গণদাবি পূরণে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারের তীব্র সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং সর্বস্তরে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি চিরতরে বন্ধের বিষয়ে দেশবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।” এসব মৌলিক গণদাবি পূরণে ব্যর্থতার কারণেই বর্তমান সরকার ধীরে ধীরে পুরোপুরি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের নিষ্ঠুর বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। এমনিতেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে; সংসারের নুন্যতম ব্যয় মেটাতেই তাদের প্রতিদিন হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর মতো অবিবেচকের সিদ্ধান্ত জনজীবনে নতুন করে তীব্র সংকট তৈরি করবে এবং গণদুর্ভোগ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর আরও যোগ করেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কেবল মোটরযান বা ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহারকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। জ্বালানি হলো বর্তমান পরিবহন ও সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। ফলে তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে কৃষি সেচ, পণ্য পরিবহন, কলকারখানার উৎপাদন ব্যয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচের ওপর। এর অনিবার্য ধারাবাহিকতায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম আবারও হু হু করে বেড়ে যাবে, যার চূড়ান্ত আর্থিক বোঝা বহন করতে হবে দেশের সাধারণ জনগণকে। তিনি অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি তারিকুল ইসলাম, কর্মপরিষদ সদস্য শামীম কবির, মাওলানা শফিউল্লাহ তালুকদার, মাহফুজুর রহমান আমিন, কাউনিয়া থানা আমির মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমানসহ মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানার শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
টাউন হল চত্বরে সমাবেশ শেষ হওয়ার পরপরই একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক—সদর রোড, ফজলুল হক এভিনিউ, চকবাজার ও গির্জা মহল্লা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টাউন হলের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে নেতাকর্মীরা জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী