ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালের বিরুদ্ধে দুদকের জোড়া মামলা: প্রায় ২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ
আদালত প্রতিবেদক:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে প্রায় দুই কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে ফয়সালের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ থাকার তথ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে মোট ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৯ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অপরাধে একটি মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অপর মামলাটিতে ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাসহ তাঁর স্ত্রীকে আসামি করা হচ্ছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জাল টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রস্তুত করে তা ব্যবহারের মাধ্যমে দুটি প্রতিষ্ঠানকে যৌথ উদ্যোগে যুক্ত দেখিয়ে টেন্ডার সিকিউরিটি বাবদ ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকার পে-অর্ডার গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যাংক হিসাব খুলে অর্থ আত্মসাৎ ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অপরাধ সংঘটিত হয়। এই মামলায় ফয়সাল করিমের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের রূপনগর উপশাখার কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম ও মো. সারোয়ার হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া অনুসন্ধানে ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার নামে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক তথ্য মেলায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর পুরানা পল্টনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি মারা যান। ওই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ড ও অর্থপাচারের সংশ্লিষ্টতায় ইতিপূর্বে তাঁর ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পায় তদন্তকারী সংস্থা।
এস এম সোহাগ ফরাজী