বানিয়াচংয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা: এলাকায় টানটান উত্তেজনা, পুলিশ মোতায়েন
হবিগঞ্জ ও সিলেট ডেস্ক / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে জায়দুল মিয়া (২৭) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মন্দরী গ্রামে এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত জায়দুল মিয়া ওই গ্রামের লোকমান মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্দরী গ্রামের জায়দুল মিয়ার পরিবারের সাথে একই গ্রামের আব্দুল মজিদ ও সারোয়ারের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম্য আধিপত্য ও বিরোধ চলে আসছিল।
শুক্রবার সকালে জায়দুল মিয়া স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে মন্দরী গ্রামের একটি নির্জন রাস্তায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা আব্দুল মজিদ ও সারোয়ারের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত তাঁর পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং উপর্যুপরি কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু
চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত রক্তাক্ত অবস্থায় জায়দুলকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত ও রক্তপাত এড়াতে বর্তমানে গ্রামটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “পূর্বশত্রুতা ও গ্রাম্য আধিপত্যের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী