ভারতে যাওয়ার পথে দর্শনা ইমিগ্রেশনে মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক গ্রেফতার
ক্রাইম ও জাতীয় ডেস্ক / চুয়াডাঙ্গা: চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পথে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে গ্রেফতার হয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের মেহেরপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ খালেক।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে দর্শনা ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরে মেহেরপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
যেভাবে আটক করা হয়
ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, সকালে মেডিকেল ভিসায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশে দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন এমএ খালেক। এ সময় ইমিগ্রেশন সার্ভারে যাচাই-বাছাইকালে তাঁর পাসপোর্টে বিদেশ গমনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের এসআই তারেক জানান, পাসপোর্টে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে আটকে রাখা হয়। এরপর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় মেহেরপুরের গাংনী থানায় যোগাযোগ করা হলে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
খবর পেয়ে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল দর্শনা ইমিগ্রেশনে পৌঁছে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখিয়ে মেহেরপুরে নিয়ে যায়।
মামলা ও পুলিশের বক্তব্য
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এমএ খালেকের বিরুদ্ধে গাংনী থানায় ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিলে দায়েরকৃত একটি নিয়মিত মামলা রয়েছে। উক্ত মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত এমএ খালেক মেহেরপুরের গাংনী বাজারের থানা রোড এলাকার মোজাহার আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং গাংনী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরিবারের দাবি
এদিকে বাবার গ্রেফতারের বিষয়ে ছেলে আসিফ রেজা দাবি করেন, “আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। তাঁর হার্টে একাধিক ব্লক ধরা পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ওপেন হার্ট বাইপাস সার্জারি করানোর জন্য তাঁকে ভারতে নেওয়া হচ্ছিল। আমাদের জানা মতে তাঁর নামে কোনো পরোয়ানা ছিল না, যেসব মামলা ছিল সেগুলোতে তিনি জামিনে রয়েছেন।”
এস এম সোহাগ ফরাজী