এ কেমন বর্বরতা! জগন্নাথপুরে ইউটিউবার সোনা মিয়াকে ধরে জোর করে মাথা ন্যাড়া
সিলেট প্রতিনিধি: শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী
আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে দিন দিন সমাজের একাংশ বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার এমন এক জঘন্য ঘটনার সাক্ষী হলো সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা।
পূর্ব বিরোধের জেরে ‘সোনাই পাগলার টংঘর’ খ্যাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সোনা মিয়াকে মারধর করে প্রকাশ্যেই মাথার লম্বা চুল কেটে জোরপূর্বক হেনস্তা করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সচেতন মহলের পাশাপাশি নেটিজেনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ পশ্চিম বাজারের খাতুন কমপ্লেক্সের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। বাগময়না গ্রামের পার্লার ব্যবসায়ী মাখন মিয়া দলবল নিয়ে সোনা মিয়াকে আটকে রাখেন এবং কাঁচি দিয়ে তার মাথার লম্বা চুল কেটে দেন। পরবর্তীতে এই অপকর্মের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী ইউটিউবার সোনা মিয়া ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘটনার বিচার দাবি করেন। তিনি জানান, বিনা অপরাধে তাকে এভাবে হেনস্তা করে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত মাখন মিয়া পুরনো বিরোধের জেরে ক্ষোভ থেকে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো অধিকার তার নেই বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে পুলিশ বিষয়টির খোঁজখবর নিচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দৈনিক জীবনযাত্রায় নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় এমন প্রকাশ্য বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এস এম সোহাগ ফরাজী