হবিগঞ্জে নিখোঁজের ২ দিন পর বাঁশঝাড় থেকে সিএনজিচালকের মরদেহ উদ্ধার: গাড়ি ছিনতাইয়ের সন্দেহে চাঞ্চল্য
সিলেট প্রতিনিধি/ শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: বাহনসহ নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে নবীগঞ্জ উপজেলার সাতাইহাল গাজির মোকাম এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড় থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত চালকের পরিচয় ও নিখোঁজের ঘটনা
নিহত সিএনজিচালকের নাম তুহিন মিয়া (২৩)। তিনি পার্শ্ববর্তী বাহুবল উপজেলার সংকরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের সিএনজি অটোরিকশাসহ বাড়ি থেকে বের হন তুহিন মিয়া। এরপর গভীর রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি এবং তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।
বাঁশঝাড়ে মরদেহ উদ্ধার ও ছিনতাইয়ের সন্দেহ
বুধবার সকালে নবীগঞ্জের সাতাইহাল গাজির মোকাম এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড়ে অজ্ঞাত এক যুবকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি নিখোঁজ তুহিন মিয়ার বলে শনাক্ত করে পুলিশ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
তবে ঘটনার পর থেকে তাঁর সিএনজি অটোরিকশাটির কোনো হদিস মেলেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবল ধারণা, যাত্রীবেশে থাকা সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র তুহিনের গাড়িটি ছিনতাই করার উদ্দেশ্যেই তাঁকে নির্জন এলাকায় নিয়ে হত্যা করে মরদেহ ফেলে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও ময়নাতদন্ত
নবীগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিফ উদঘাটন, ছিনতাই হওয়া সিএনজি অটোরিকশাটি উদ্ধার এবং এ জঘন্য অপরাধে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার করতে জোর তৎপরতা চলছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী