গণতন্ত্র রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ: সিলেটে নাগরিক সংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান
সিলেট ব্যুরো / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: অর্জিত গণতন্ত্রকে রক্ষা ও সুসংহত করাই এ মুহূর্তে জাতির প্রধানতম দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অপরিসীম ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদী শাসনকে হটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে; এখন সময় এসেছে একে একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে নগর ভবন প্রাঙ্গণে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনার জবাবে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
ঐক্যমত্য ও সংসদ কার্যকর করার তাগিদ
রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “গণতন্ত্রকে মজবুত করতে সরকার ও বিরোধী দলকে একযোগে কাজ করতে হবে। সংসদকে করতে হবে কার্যকর ও প্রাণবন্ত। রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের মৌলিক ও কৌশলগত বিষয়গুলোতে সবার সর্বসম্মত ঐক্যমতে পৌঁছানো জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “আগামীর লড়াই দেশকে নতুন করে পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার লড়াই। আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেওয়া। অতীতে দেশ বহুবার হোঁচট খেয়েছে, তবে আজ আবার নতুন করে দেশ গড়ার ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করা যাবে না; আমাদের অবশ্যই নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে।”
‘আমি শপথ নিয়েছি, সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব’
বক্তব্যের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি নিজের সাংবিধানিক অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “অতীতে একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যেভাবে আপনাদের সামনে খোলামেলা কথা বলতাম, আজ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে সেভাবে বলার সুযোগ নেই। আমি শপথ নিয়েছি যে, আমি সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে রাষ্ট্র ও জনগণের সেবায় কাজ করব এবং কথা বলব।”
সিলেটের ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও ইতিহাস স্মরণ
সিলেটের ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে যে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে, তা বিশ্বমঞ্চে অনন্য। সিলেটের মাটি পুণ্যভূমি; এখানে জড়িয়ে রয়েছে হজরত শাহজালাল (রহ.), হজরত শাহপরাণ (রহ.) এবং মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য দেবের অমলিন স্মৃতি। হাছন রাজা, রাধারমণ দত্ত, বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম ও হেমাঙ্গ বিশ্বাসের সুরের সাধনা এ জনপদেই সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এমএজি ওসমানী, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, এম এ খান এবং নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর রাজনৈতিক অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। পাশাপাশি সিলেটের চায়ের বৈশ্বিক খ্যাতি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে প্রবাসীদের অনবদ্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি সিলেটসহ দেশের সম্ভাবনাময় শিল্পখাতে আরও বেশি বিনিয়োগের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
সংবর্ধনা মঞ্চের অতিথিবৃন্দ
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন—
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বাণিজ্যমন্ত্রী
আরিফুল হক চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী
মো. জি কে গউছ, হুইপ, জাতীয় সংসদ সহ স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।