শাবিপ্রবিতে ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় বহিরাগত যুবক আটক: প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে পুলিশে সোপর্দ, মামলার প্রক্রিয়া
সিলেট ব্যুরো / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) টিউশনি থেকে ফেরার পথে এক নারী শিক্ষার্থীকে পিছু নিয়ে উত্ত্যক্ত ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করার অভিযোগে আনারুল মিয়া (২৭) নামের এক বহিরাগত যুবককে আটক করা হয়েছে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির জিজ্ঞাসাবাদে দোষ স্বীকার করায় তাকে জালালাবাদ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আসামির পরিচয় ও পেশা
অভিযুক্ত যুবকের নাম আনারুল মিয়া (২৭)। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। সে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।
পিছু নিয়ে উত্ত্যক্ত ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, রবিবার রাতে নগরীর একটি বাসায় টিউশনি শেষ করে তিনি ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে এসে হলে ফেরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশার অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘক্ষণ কোনো যানবাহন না পেয়ে তিনি বাধ্য হয়ে হেঁটে হলের উদ্দেশে রওনা দেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল নিয়ে আনারুল মিয়া তার পিছু নেয় এবং ক্রমাগত অনুসরণ করতে থাকে।
একপর্যায়ে আনারুল মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে ওই শিক্ষার্থীর পথরোধ করে এবং জোরপূর্বক তার মুঠোফোন নম্বর দাবি করে বন্ধুত্বের কুপ্রস্তাব দেয়। শিক্ষার্থী অস্বীকৃতি জানালে সে লক্ষ্য করে অশালীন কথাবার্তা, শিস এবং কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে।
ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ওই শিক্ষার্থী অবিলম্বে ফোনে তার সহপাঠীদের বিষয়টি জানান। খবর পাওয়া মাত্রই সহপাঠীরা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ছুটে গিয়ে হাতেনাতে আনারুলকে মোটরসাইকেলসহ আটক করেন।
প্রক্টর কার্যালয়ে জবানবন্দি ও পুলিশে হস্তান্তর
আটকের পর রাতেই অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আনারুল মিয়া ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও পিছু নেওয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে।
শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান জানান, “শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্তের বিষয়টি জানার পরই আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত যুবক তার অপরাধ স্বীকার করায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জালালাবাদ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ও সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
মামলা দায়ের ও আইনি পদক্ষেপ
ঘটনার পর সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ফারুক মিয়া বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের আবেদন করেন।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অভিযুক্তকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের বিষয়টি চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আইন অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী বিচারিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী