সমঝোতার পর ভেন্যু বদলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ ও কনসার্ট সম্পন্ন: ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’র গানে মাতল তরুণরা
/ শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির মুখে সমঝোতা বৈঠকের মাধ্যমে বিকল্প ভেন্যুতে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ ও কনসার্ট। প্রধান ক্যাম্পাসের বদলে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই কনসার্টে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’ সঙ্গীত পরিবেশন করে, যাতে নবীন-প্রবীণ হাজারো শিক্ষার্থীর ঢল নামে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ সাংস্কৃতিক পর্ব সম্পন্ন হয়। এর আগে দুপুরে মূল ক্যাম্পাসে নবীনবরণের আনুষ্ঠানিক আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আপত্তি ও সমঝোতা বৈঠকের প্রেক্ষাপট
গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নবীনবরণে গানবাজনা ও কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছিল জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংসদ সদস্যের বাসভবনে কলেজ প্রশাসন ও কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে এক ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—মূল ক্যাম্পাসে কেবল আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হবে এবং “কোনো ধরনের অশ্লীলতা হবে না”—এই সুনির্দিষ্ট শর্তে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থানান্তরিত করা হবে।
মূল ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও অতিথিবৃন্দ
সোমবার দুপুরে কলেজের মূল ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে অধ্যক্ষ এ. কে. এম. ওবায়দুল হকের সভাপতিত্বে নবীনবরণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—
সিরাজুল ইসলাম, প্রশাসক, জেলা পরিষদ
জহিরুল হক, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি, জেলা বিএনপি
হাফিজুর রহমান মোল্লা, সাবেক সভাপতি, জেলা বিএনপি
প্রধান অতিথি নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে ক্যাম্পাসের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ও শিক্ষার মান বজায় রাখার আহ্বান জানান। আলোচনা পর্ব শেষে অতিথিরা ক্যাম্পাস চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সুরের মূর্ছনা
আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষে বিকেলে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে শুরু হয় বহুপ্রতীক্ষিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আয়োজকরা শুরু থেকেই এটিকে মার্জিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করে আসছিলেন।
মঞ্চে জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘হাইওয়ে’ গান পরিবেশন শুরু করলে ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। ব্যান্ডের পরিচিত গানগুলোতে কণ্ঠ মেলান শত শত শিক্ষার্থী। হাইওয়ে ছাড়াও স্থানীয় শিল্পীদের গান পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়।
এস এম সোহাগ ফরাজী