মনোহরদীতে ডিমবাহী পিকআপে ডাকাতির ৭ দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন: লুণ্ঠিত পিকআপ ও দেশীয় অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
নরসিংদী প্রতিনিধি / স্টাফ রিপোর্টার: নরসিংদীর মনোহরদীতে ডিমবোঝাই পিকআপে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার মাত্র সাত দিনের মাথায় পুরো রহস্য উদঘাটন করেছে মনোহরদী থানা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ সময় লুণ্ঠিত মাহিন্দ্র পিকআপ, ডিমের ক্যারেট ও নগদ টাকাসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অপর একটি পিকআপ ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ব্যারিকেড দিয়ে ২৬ হাজার ডিমসহ পিকআপ ছিনতাই
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দিবাগত রাতে মনোহরদী থানাধীন চঙ্গভান্ডা এলাকায় সড়কে গাছ বা ব্যারিকেড ফেলে ডিমবাহী একটি মাহিন্দ্র পিকআপের গতিরোধ করে ডাকাত দল। পরে চালক ও সহকারীকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ২৬ হাজার ১০০ পিস ডিমসহ মাহিন্দ্র পিকআপটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। লুণ্ঠিত পিকআপ ও ডিমের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৭৯৫ টাকা।
পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান ও সাফল্য
ঘটনার পর মনোহরদী থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হলে থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় তদন্তে নামে। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এবং নোয়াখালীর সেনবাগ এলাকায় ধারাবাহিক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে উদ্ধারকৃত লুণ্ঠিত মালামাল ও ডাকাতির সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে:
লুণ্ঠিত মালামাল: ০১টি মাহিন্দ্র পিকআপ, ৯৮ পিস ডিমের খালি ক্যারেট এবং ডিম বিক্রির নগদ ১০,০০০ টাকা।
ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম: ০১টি মাহিন্দ্র পিকআপ, ০৩টি ধারালো রামদা, ০২টি লোহার রড, ০১টি হাতুড়ি, ০২টি স্ক্রু ড্রাইভার, ০১টি তার কাটার প্লাস, মুখ বাঁধার কাজে ব্যবহৃত ০৪টি গামছা এবং ০৩টি মোবাইল ফোন।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—
১. ইমন (২৮), পিতা- বাদশা মিয়া, সাং- বড় নগর, থানা- সোনারগাঁও, জেলা- নারায়ণগঞ্জ।
২. মো. রিফাত হৃদয় (২৮), পিতা- মো. মজিবুর রহমান, সাং- বড় নগর, থানা- সোনারগাঁও, জেলা- নারায়ণগঞ্জ।
৩. আব্দুল্লাহ আল মুন্না ওরফে রোমান (২৭), পিতা- মো. জসিম উদ্দিন, সাং- গুনাইঘর, থানা- দেবীদ্বার, জেলা- কুমিল্লা।
৪. রহমত আলী ওরফে জিল্লুর, পিতা- মো. রাজা মিয়া, সাং- ভুইয়ার পাড়, থানা- ইটনা, জেলা- কিশোরগঞ্জ (তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ইতিপূর্বে ১২টি মামলা রয়েছে)।
৫. জসিম উদ্দিন (৬০), পিতা- মৃত আবু তাহের, সাং- বাবুপুর (সেনবাগ পৌরসভা ০৯ নং ওয়ার্ড), থানা- সেনবাগ, জেলা- নোয়াখালী।
আদালতে স্বীকারোক্তি ও পুলিশি তদন্ত
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে পণ্যবাহী পরিবহনে নিয়মিত ডাকাতি চালিয়ে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী