বিশ্বনাথে আ.লীগ নেতা আব্দুল করিমের নেতৃত্বে সাংবাদিক পরিবারের ওপর হামলা: নারীসহ আহত ৫, থানায় পাল্টা অভিযোগ
সিলেট প্রতিনিধি (শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী):
সিলেটের বিশ্বনাথে জমি থেকে জোরপূর্বক গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে সাংবাদিক আব্দুস সালাম মুন্নাসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ হামলায় নারীসহ একই পরিবারের অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্বনাথ পৌর এলাকার বিশ্বনাথেরগাঁও গ্রামে এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সাংবাদিক আব্দুস সালাম মুন্না বাদী হয়ে বিশ্বনাথ পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল করিমসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে বিশ্বনাথ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—বিশ্বনাথেরগাঁও গ্রামের মৃত আখরম উল্লাহর ছেলে ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল করিম, তাঁর ভাই আব্দুর রহিম, আব্দুর রহিমের স্ত্রী মিনারা বেগম এবং আব্দুল হান্নানের স্ত্রী রুশনা বেগম।
জোরপূর্বক গাছ কাটা ও অতর্কিত হামলার অভিযোগ:
থানায় দেওয়া লিখিত এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুল করিম স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সহ-সভাপতি হওয়ায় বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকার বহু সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভূমি দখল, জালিয়াতি ও প্রতারণাসহ নানাবিধ অপরাধের দায়ে পূর্বে একাধিকবার জেল খাটার অভিযোগ রয়েছে। দল বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতায় না থাকলেও এলাকায় নিজের ব্যক্তিগত আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে এবং আর্থিক সুবিধা হাসিল করতে গ্রামে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাঁধানো ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে বাদীপক্ষকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা বাদীর ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমিতে অনধিকার প্রবেশ করে তাঁদের অজান্তে জোরপূর্বক বেশ কয়েকটি মূল্যবান বনজ ও ফলজ গাছ কেটে ফেলে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সাংবাদিক সালাম মুন্না ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল করিমের সরাসরি হুকুমে আসামিরা রামদা, লোহার রড ও লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে নারীসহ পরিবারের পাঁচজন গুরুতর জখম হন।
অভিযুক্তের বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ:
হামলার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল করিম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি কারও ওপর হামলা করিনি এবং আওয়ামী লীগের দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে কোনোদিন হয়রানিও করিনি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “উক্ত ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী