বিকেলে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা, রাতেই বিএনপি নেতা খোকনের আকস্মিক মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার: শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, দৈনিক জীবনযাত্রা
কুমিল্লা:
‘মৃত্যু ছাড়া কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’—নেতাকর্মীদের সামনে নিজের প্রার্থিতার পক্ষে এমন বলিষ্ঠ ঘোষণা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন। বিকেলে দিনভর গণসংযোগ শেষে রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তাঁর নিজের মুখের সেই কথাই যেন নির্মম সত্যিতে পরিণত হলো।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) চান্দিনা উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে দিনভর ব্যাপক গণসংযোগ চালান সাইফুল ইসলাম খোকন। এ সময় শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থক তাঁর সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নেন। গণসংযোগ চলাকালে স্থানীয় রাজনীতির নানা সমীকরণে শেষ পর্যন্ত তিনি ভোটের মাঠ ছেড়ে দেবেন কি না—এমন গুঞ্জন উঠলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন খোকন।
নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে দৃঢ় কণ্ঠে তিনি ঘোষণা দেন, ‘আমার মৃত্যু ছাড়া কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’
দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে জনসংযোগ শেষ করে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে ফেরেন এই বিএনপি নেতা। এরপর রাত ১২টার দিকে তিনি হঠাৎ শরীরে তীব্র ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত পার্শ্ববর্তী দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাধারণ সম্পাদক এস এম মিজান।
মৃত্যুকালে তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি চান্দিনা উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর এলাকার মসজিদের মাইকে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রচারিত হলে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ গোটা চান্দিনা উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বিকেলে যাঁর মুখে নির্বাচনের প্রত্যয়দীপ্ত ঘোষণা শুনেছিলেন, রাতেই তাঁর চিরবিদায়ের খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
এস এম সোহাগ ফরাজী