চলতি মাসেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল, ভোট নভেম্বরের শুরুতে: থাকছে পোস্টারবিহীন প্রচারসহ নানা নতুন বিধান
সিলেট ব্যুরো / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: সিলেটসহ সারা দেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন প্রায় চূড়ান্ত। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এছাড়া আগামী নভেম্বরের শুরুতেই বিভিন্ন ধাপে ভোটগ্রহণ শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
শুক্রবার নির্বাচন কমিশনার মোপ্র আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন এবং এখন কেবল আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার অপেক্ষা। নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনের পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।
প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনার শেষ পর্যায়ে কমিশন 인트্রো
ইতোমধ্যে দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নে ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং প্রায় ৪৫ হাজার ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের প্যানেল তৈরির কাজ চলছে এবং খুব দ্রুত নির্বাচনী আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনা বিধি ও সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের কিছু প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে ইউপি নির্বাচন নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে বসবে কমিশন। বৈঠকে কয়টি ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং কোন ধাপে কতটি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ করা হবে, তার পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গেও মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
সিইসির পরিকল্পনা ও বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে সময়সূচি
এর আগে গত ২৭ আগস্ট প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা এবং নভেম্বরের মধ্যে ভোট সম্পন্ন করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন।
বর্তমানে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৮৮ লাখ। তবে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই ভোটের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বা পরীক্ষার কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
নতুন কিছু বিধান ও প্রযুক্তির ব্যবহার
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অতীতের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সহিংসতা রোধে বাড়তি সতর্কতা ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় এই নির্বাচনেও কিছু নতুন বিধান যুক্ত করা হচ্ছে, যার মধ্যে পরিবেশ সুরক্ষায় ‘পোস্টারবিহীন প্রচারণা’ চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা
অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে সহিংসতার ইতিহাস থাকায় কমিশন এবার সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও শান্তি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। দলীয় প্রতীকের বাইরে নির্দলীয়ভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হলেও একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং সচেতন নাগরিক সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সব প্রস্তুতি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ করে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
দৈনিক জীবনযাত্রা