মন্ত্রী গেলেন, অনিয়ম রয়েই গেল: ওসমানী হাসপাতালে সিটের জন্য বাণিজ্য, ডাক্তারদের দায়িত্ব ফাঁকি
নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক জীবনযাত্রা
সিলেট প্রতিনিধি: শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী
সিলেট:
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের রেশ কাটতে না কাটতেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিরে এসেছে পুরোনো অনিয়ম ও ভোগান্তির চিত্র। মন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায় চিকিৎসাসেবার নামে চলছে চরম অব্যবস্থাপনা, দায়িত্ব ফাঁকি ও প্রকাশ্য সিট বাণিজ্য।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় যেখানে রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার কথা, সেখানে একাধিক ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের ডিউটি রুমে ঘুমানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। জরুরি চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য যখন মুমূর্ষু রোগীর স্বজনরা ওয়ার্ডের সামনে কান্নাকাটি ও ছোটাছুটি করছেন, তখনও নির্বিকার সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে বড় ভোগান্তির জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে হাসপাতালের সাধারণ বেড বা সিট বরাদ্দ। অভিযোগ উঠেছে, একটি সিটের জন্য রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ওয়ার্ডবয় এবং দালাল চক্রের হাতে গুনতে হচ্ছে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা। টাকা ছাড়া খালি পড়ে থাকা শয্যাও সাধারণ রোগীদের দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা কোনো উপায় না পেয়ে মেঝে ও নোংরা বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সিট বাণিজ্য ও চিকিৎসকদের দায়িত্বহীনতার শিকার এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্বাস্থ্যমন্ত্রী যখন এসেছিলেন, তখন ভেবেছিলাম এবার বুঝি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে। কিন্তু মন্ত্রী যাওয়ার পরই আবার আগের রূপ। টাকা ছাড়া এই হাসপাতালে কোনো সিট জোটে না, ডাক্তারদেরও সময়মতো ডেকে পাওয়া যায় না।”
মন্ত্রীর পরিদর্শনের পরপরই এমন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ফিরে আসায় ক্ষুব্ধ সচেতন মহল। পরিদর্শন আর মৌখিক নির্দেশেই কি প্রশাসনের দায় শেষ—এমন প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো বৃহত্তর সিলেটবাসীর অন্যতম প্রধান ভরসাস্থলে স্থায়ী শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জোর দাবি উঠেছে।