সিলেট রেলস্টেশন এলাকায় বস্তাবন্দি ফল ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার: নেপথ্যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, সন্দেহভাজন ৩ জন আটক
সিলেট ব্যুরো / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: সিলেট নগরীর রেলস্টেশন সংলগ্ন কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় বস্তাবন্দি অবস্থায় লায়েছ মিয়া (৩৪) নামের এক ভ্রাম্যমাণ ফল ও সবজি ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে রেলস্টেশন সংলগ্ন টার্মিনাল এলাকা থেকে ওই যুবকের বস্তাবন্দি নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
যেভাবে মিলল বস্তাবন্দি মরদেহ
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সিলেট রেলস্টেশন ও টার্মিনাল সংলগ্ন সড়কে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এ সময় রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত একটি চটের বস্তা থেকে মানবদেহের একটি পা বের হয়ে থাকতে দেখে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে কোতোয়ালি মডেল থানা ও রেলওয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে বস্তাটির মুখ খুলে যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিচয়
নিহত লায়েছ মিয়া সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া গ্রামের আঙ্গুর মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে সিলেট নগরীর শামীমাবাদ এলাকায় মনিকা সিনেমা হলের পাশের একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে মৌসুমি ফল ও শাকসবজি বিক্রি করে সংসার চালাতেন তিনি।
মারধরের পর কুপিয়ে হত্যা: পুলিশের ধারণা
পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের গলা, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর জখম ও ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। পরে পরিচয় ও প্রমাণ গোপন করার উদ্দেশে মরদেহটি বস্তাবন্দি করে রেলস্টেশনের জনবহুল এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পুলিশ আরও ধারণা করছে, হত্যাকাণ্ডটি উদ্ধারের দুই থেকে তিন দিন আগে কিংবা বৃহস্পতিবার রাতের যেকোনো সময়ে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনার পরপরই সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থল ও নিহতের শামীমাবাদের ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে।
এসএমপির বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মঞ্জুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহালে মরদেহের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছাড়াও একাধিক জখমের চিহ্ন স্পষ্ট।”
তিনি আরও বলেন, “হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তৎপর রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ও জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিতভাবে জানানো সম্ভব হবে।”
দৈনিক জীবনযাত্রা