রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১৩ বছরের মাদ্রাসাছাত্রকে ধারাবাহিক বলাৎকারের অভিযোগ: শিক্ষক হুসাইন আহমেদ আটক
ক্রাইম রিপোর্টার / ঢাকা: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে একাধিকবার বলাৎকারের অভিযোগে মো. হুসাইন আহমেদ নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল ৫টার দিকে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডস্থ বাইতুল ফজল মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে আটক করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোর নূরজাহান রোডের বাইতুল ফজল মাদ্রাসায় কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করছিল। প্রতিদিন বিকেলে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সে শিক্ষক মো. হুসাইন আহমেদের কাছে নিয়মিত পাঠ নিত।
অভিযোগ রয়েছে, পাঠদানের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ওই ছাত্রকে নিজের ব্যক্তিগত কক্ষে ডেকে নিয়ে যেতেন শিক্ষক হুসাইন। সেখানে দিনের পর দিন নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে একাধিকবার জোরপূর্বক বলাৎকার করা হয়। সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর ওই কিশোরের ওপর একইভাবে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।
পরিবার ও স্থানীয়দের ক্ষোভ, পুলিশে সোপর্দ
গত ২ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাহস করে বিষয়টি তার বাবা-মাকে খুলে বলে। ঘটনা শুনে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা রবিবার বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসায় যান এবং অভিযুক্ত শিক্ষক হুসাইন আহমেদকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতার উপস্থিতি ও উত্তেজনার খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
মোহাম্মদপুর থানার বক্তব্য ও আইনি ব্যবস্থা
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর ছাত্রকে একাধিকবার বলাৎকারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে হেফাজতে নেয়।”
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি শিশুটির প্রয়োজনীয় শারীরিক ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।