জকিগঞ্জে নববিবাহিত তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু: পুত্রের নিথর দেহ দেখে পরপারে পাড়ি জমালেন বাবা
সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেটের জকিগঞ্জে বিয়ের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক তরুণ। আর সদ্য বিবাহিত ছেলের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর সইতে না পেরে শোকে কাতর হয়ে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বৃদ্ধ বাবাও। একই দিনে ঘণ্টার ব্যবধানে পিতা ও পুত্রের এমন হৃদয়বিদারক প্রয়াণে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক ও স্তব্ধতা।
রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের খিলগ্রাম (খালপাড়) এলাকায় এই মর্মস্পর্শী দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত তরুণের নাম মাসুক আহমেদ। তিনি খিলগ্রাম এলাকার বাসিন্দা আব্দুল লতিফের ছেলে। মাসুক স্থানীয় শাহগলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার ‘নুসরাত লাইটিং’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় কর্মস্থলে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন মাসুক আহমেদ। সঙ্গে সঙ্গে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
স্বজনরা জানান, মাত্র কিছুদিন আগেই নতুন জীবনে পা রেখেছিলেন মাসুক আহমেদ। দুই পরিবারের সম্মতি ও ধুমধামের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল তার শুভ পরিণয়। হাতের বিয়ের মেহেদির লাল রঙ তখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি। নতুন সংসার, স্ত্রীর ভবিষ্যৎ এবং নিজের স্বপ্ন নিয়ে দিন কাটছিল তার। পুরো পরিবারে বইছিল উৎসবের রেশ। কিন্তু নিয়তির এক নির্মম পরিহাসে এক পলকেই নিভে গেল সেই তরুণের জীবনপ্রদীপ।
এদিকে কর্মস্থলে ছেলের আকস্মিক মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছামাত্রই কান্নায় ভেঙে পড়েন মাসুকের বাবা আব্দুল লতিফ। চোখের সামনে সন্তানের অকাল মৃত্যুর এই নিদারুণ শোক সহ্য করতে পারেননি তিনি। স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তীব্র মানসিক ধাক্কা ও পুত্রশোকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বৃদ্ধ আব্দুল লতিফ।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিবারের দুই উপার্জনক্ষম ও প্রিয় সদস্যকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন পরিবারের অন্য সদস্যরা। যে বাড়িতে মাত্র কিছুদিন আগেও বিয়ের আনন্দ, অতিথি সমাগম আর হাসিখুশি পরিবেশ ছিল, সেই ঘর এখন স্বজনদের বুকফাটা আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে। নববধূর আহাজারি দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও।
একই সাথে বাবা ও ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে খিলগ্রামসহ সমগ্র বারহাল ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
দৈনিক জীবনযাত্রা