ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত: সভাপতি শফিক রেহমান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান
ডেস্ক রিপোর্ট / জাতীয় ডেস্ক: সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা ও সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করল ‘ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল’ (এনইসি)। সংগঠনটির প্রথম সাধারণ সভায় অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এছাড়া ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সাধারণ সভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা থেকে প্রকাশিত ২৯টি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকরা অংশ নেন।
গঠনতন্ত্র অনুমোদন ও ‘নজরুল পদক’ প্রবর্তন
শফিক রেহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত সম্পাদকদের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনের খসড়া গঠনতন্ত্র কিছু সংশোধনীসহ সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
সভায় যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদারের প্রস্তাবনায় সাংবাদিকতায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে প্রতিবছর ‘সাংবাদিকতায় নজরুল পদক’ প্রবর্তনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তিনি তাঁর বক্তব্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে উপমহাদেশে গণমুখী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ও সফল সম্পাদক হিসেবে স্মরণ করেন।
শীর্ষ সম্পাদকদের বক্তব্য ও অভিমত
শফিক রেহমান (সভাপতি, এনইসি): সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশে শান্তি, সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে নিতে সারা দেশের সম্পাদকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”
মাহমুদুর রহমান (সাধারণ সম্পাদক, এনইসি): তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই ও শত শত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গণমাধ্যম আজ মুক্ত পরিবেশ পেয়েছে। এখন আমাদের শিরদাঁড়া সোজা রেখে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করতে হবে। স্বাধীন গণমাধ্যমের সুরক্ষায় এনইসি সারা দেশে বিস্তৃত হবে।”
শফিকুল আলম (কোষাধ্যক্ষ, এনইসি): তিনি উল্লেখ করেন, “গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত বাংলাদেশে সারা দেশের সম্পাদকদের প্রতিনিধিত্বকারী এমন একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম সময়ের দাবি ছিল।”
উপস্থিত সম্পাদকবৃন্দ
সভায় উপস্থিত থেকে সংবাদপত্রের নীতিমালা ও স্বাধীনতা রক্ষায় মতামত ব্যক্ত করেন—
সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর (নয়া দিগন্ত), মারুফ কামাল খান (প্রতিদিনের বাংলাদেশ), মোকাররম হোসেন (নিউ নেশন), লোটন একরাম (বাংলাদেশ প্রতিদিন), ওসমান গনি মনসুর (পিপলস ভিউ), শহিদুল ইসলাম (মানবকণ্ঠ), শেখ নজরুল ইসলাম (খবর সংযোগ), সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন (বাংলাদেশের খবর), কে এম বেলায়েত হোসেন (ভোরের ডাক), ওবায়দুর রহমান শাহীন (জনতা), সদরুল হাসান (দ্য বাংলাদেশ পোস্ট), গিয়াস উদ্দিন (বাণিজ্য প্রতিদিন), মনির হোসেন (খোলা কাগজ), সায়েম ফারুকী (রূপালী বাংলাদেশ), শেখ মুহাম্মদ আরিফ (ভোরের বাংলা), ড. মাহবুবুর রহমান (দি গ্লোবাল পোস্ট), শামসুল হক দুররানি (নওরোজ)।
এ ছাড়া ঢাকার বাইরের বিভাগীয় সম্পাদকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— আফসার উদ্দিন চৌধুরী (দৈনিক কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম), শান্তুনু ইসলাম (দৈনিক লোকসমাজ, যশোর), সোহেল মাহবুব (নতুন প্রভাত, রাজশাহী), সাইফুল ইসলাম (দৈনিক নিউটাইমস, ময়মনসিংহ), মুকতাবিস উন নুর (দৈনিক জালালাবাদ, সিলেট), মোরছালীন বাবলা (যুগের চিন্তা, নারায়ণগঞ্জ), মো. আশরাফ (দৈনিক প্রবাহ, খুলনা) এবং আযাদ আলাউদ্দীন (বাংলাদেশ বাণী, বরিশাল)।