সবার সঙ্গে সম্পর্কের দরজা খোলা রেখেই বাণিজ্যিক ও সামরিক চুক্তিতে যেতে হবে: আসিফ মাহমুদ
স্টাফ রিপোর্টার / জাতীয় ডেস্ক: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত স্বাধীনতা ও ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ডায়াস্পোরা বিষয়ক উপকমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশের অবশ্যই সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার দরজা খোলা রেখেই যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক কিংবা সামরিক চুক্তিতে যাওয়া প্রয়োজন।”
পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের জ্বালানি সংকট, বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, প্রবাসী শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট এবং চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দেন।
পররাষ্ট্রনীতি ও মক্কা প্যাক্ট প্রসঙ্গে
মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা মক্কা প্যাক্টে যুক্ত হওয়া নিয়ে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। তবে পররাষ্ট্রনীতি এমন হতে হবে, যাতে একটি পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে গিয়ে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”
জ্বালানি সংকট ও ভুতুড়ে বিল
দেশের বর্তমান তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, “অতিরিক্ত মূল্য ও ভুতুড়ে বিল পরিশোধের পরও নাগরিকরা পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। পরিস্থিতি ২০০৫ সালের আগের মতো সংকটাপন্ন অবস্থায় গিয়ে ঠেকছে।”
প্রবাসী শ্রমবাজার ও টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি সিন্ডিকেট
প্রবাসী কর্মীদের ভোগান্তি ও বিমান টিকিটের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সৌদি আরবের টিকিটের দাম প্রায় ৪০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমানে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সেই টিকিট ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়া যেতে প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে, যা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। দেশের বিভিন্ন খাতে নতুন করে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি সক্রিয় হয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।” তিনি অবিলম্বে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবি জানান।
১১ দলীয় জোটের লংমার্চ প্রসঙ্গে
১১ দলীয় জোট ঘোষিত লংমার্চের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, “এটি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচি। লংমার্চের মাধ্যমে আমরা মূলত বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ তুলে ধরতে চাই।”
ওমরাহ শেষে দেশে ফিরে দেশবাসী, প্রবাসী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ।
দৈনিক জীবনযাত্রা