নারায়ণগঞ্জে প্লাস্টিকের বন্দুক নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি ও ভিডিও ভাইরাল: দুই তরুণ গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার আইনে মামলা
স্টাফ রিপোর্টার / নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কে প্রকাশ্যে অস্ত্রসাদৃশ্য খেলনা বন্দুক নিয়ে মহড়া দিয়ে জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি ও সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনে মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
ভিডিও ভাইরাল ও পুলিশের প্রযুক্তিগত তদন্ত
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট বন্দুক হাতে দুই তরুণের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর একটি ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কের বিভিন্ন অংশে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় জেলা পুলিশের আইসিটি শাখা তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিওটির কারিগরি বিশ্লেষণ শুরু করে এবং সম্পৃক্তদের পরিচয় শনাক্ত করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
গ্রেপ্তার হওয়া দুই তরুণ হলেন:
মো. লিমন তোহা (২২): ভিডিও নির্মাতা ও পরিকল্পনাকারী; পিতা- মো. শামীম আহম্মেদ, মাতা- লাইজু আক্তার, সাং- বন্দর বাজার (কে কে টাওয়ারের পাশে, মসুরের বাড়ির ভাড়াটিয়া), থানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ।
মো. ইয়াছিন মোল্লা (২৩): বন্দুক হাতে মহড়াদাতা; পিতা- মো. স্বপন মোল্লা, মাতা- সাথী মল্লিক, সাং- বন্দর ফায়ার সার্ভিসের গলি, থানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ।
দ্রুত বিচার আইনে মামলা ও আদালতে সোপর্দ
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজেদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের আভিযানিক দল ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে।
পুলিশ জানায়, আসামিরা শটগান ও এসএমজি সাদৃশ্য প্লাস্টিকের অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে পার্কে আসা দর্শনার্থী, পথচারী ও শিশুদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিনোদনের নামে এমন বেপরোয়া আচরণ জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ৪ ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কনটেন্ট তৈরি বা বিনোদনের নামে অস্ত্র প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করা গুরুতর অপরাধ। খেলনা অস্ত্র হলেও এর মাধ্যমে জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।