সিলেটে এইচএসসিতে ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার: পাসে এগিয়ে মেয়েরা, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে ছেলেরা
সিলেট প্রতিনিধি (শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী):
সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় চরম ফলাফল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশে, যা বিগত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখে এবারও সামগ্রিক পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। যদিও সর্বোচ্চ সাফল্য সূচক জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ছাত্ররা।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) সকালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস বেগম।
ফলাফলের সার্বিক পরিসংখ্যান:
বোর্ড থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীন চার জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭১ হাজার ৮৯৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪১ হাজার ৫৯৭ জন। সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫০.৯০ শতাংশে। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী।
গত বছর (২০২৫ সালে) এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫১.৮৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৬০২ জন। সেই তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি—উভয় ক্ষেত্রেই স্পষ্ট পতন লক্ষ্য করা গেছে।
ছেলে বনাম মেয়ের লড়াই:
ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিগত পাঁচ বছরের মতো এবারও পাসের হারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে মেয়েরা।
ছাত্রী: অংশ নিয়েছিল ৪২ হাজার ৯৫৮ জন, পাস করেছে ২৭ হাজার ৫০১ জন। পাসের হার ৫২.৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯১ জন।
ছাত্র: অংশ নিয়েছিল ২৮ হাজার ৯৩৫ জন, পাস করেছে ১৪ হাজার ৯৬ জন। পাসের হার ৪৮.৭২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬১৩ জন।
হিসেব অনুযায়ী, মেয়েদের পাসের হার ছাত্রদের চেয়ে ৩.৬৬ শতাংশ বেশি হলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছাত্ররা ২২টি ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
বিগত ৫ বছরের পাসের হারের তুলনামূলক চিত্র:
সিলেট শিক্ষা বোর্ডে বিগত কয়েক বছরের ছাত্র-ছাত্রীদের পাসের হারের চিত্র বিশ্লেষণ করলে মেয়েদের ধারাবাহিক অগ্রগামিতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
২০২১: ছাত্র ৯৩.৬৮%, ছাত্রী ৯৫.৭৩%
২০২২: ছাত্র ৭৯.৮০%, ছাত্রী ৮২.৬১%
২০২৩: ছাত্র ৬৯.৫৮%, ছাত্রী ৭৩.০৭%
২০২৪: ছাত্র ৮৩.৮৫%, ছাত্রী ৮৬.৪৪%
২০২৫: ছাত্র ৪৯.৯৬%, ছাত্রী ৫৩.১৩%
২০২৬ (চলতি বছর): ছাত্র ৪৮.৭২%, ছাত্রী ৫২.৩৮%
গত বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ১৭২ জন, যা চলতি বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৭১ হাজার ৮৯৩ জনে। তবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও দীর্ঘ ১৩ বছরের ব্যবধানে পাসের হার অর্ধেকে নেমে আসায় গভীর উদ্বেগ ও চিন্তা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও অভিভাবক মহল। সংশ্লিষ্টদের মতে, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ মৌলিক বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাই এই ফলাফলের মূল কারণ হতে পারে।
এস এম সোহাগ ফরাজী