জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ এইচএসসি শিক্ষার্থী নাবিলের পা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত: পাশে দাঁড়াল ছাত্রদল
জাতীয় ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত এইচএসসি শিক্ষার্থী মো. নাবিল ইসলামের দীর্ঘ দুই বছরের চিকিৎসা শেষে ডান পা কেটে ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। দেশ ও বিদেশে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পরও পা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
এমন চরম সংকটময় মুহূর্তে শিক্ষার্থী নাবিল ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলামের পক্ষ থেকে নাবিলের মনোবল বৃদ্ধি ও পাশে থাকার বার্তা নিয়ে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।
আহত হওয়ার প্রেক্ষাপট ও দীর্ঘ চিকিৎসা
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর কদমতলী থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় শিক্ষার্থী নাবিল। গুলিটি তার ডান পায়ে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি করে।
বিগত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ এবং থাইল্যান্ডের উন্নত হাসপাতালে দফায় দফায় অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা করানো হয়। তবে দীর্ঘ চেষ্টা সত্ত্বেও তার ডান পা সম্পূর্ণ সুস্থ করা সম্ভব হয়নি। সংক্রমণের ঝুঁকি ও শারীরিক জটিলতা এড়াতে চিকিৎসকদের পরামর্শে অবশেষে আগামী মাসে পা কেটে ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে পরিবার।
পারিবারিক প্রেক্ষাপট ও ছাত্রদলের সহমর্মিতা
নাবিলের বাবা চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নের বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, যিনি বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ৯টি মামলার আসামি হয়েছিলেন।
অসহায় এই পরিবারের দুঃসময়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নাবিলের বাসায় যান এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলামের পক্ষ থেকে তার জন্য শুভেচ্ছা ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নাবিলের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দেশবাসীর কাছে বিশেষ দোয়া চাওয়া হয়েছে।