‘যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দোসর’ অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী আহমদ আলীর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
কমিউনিটি বিট | যুক্তরাজ্য
সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আহমদ আলীকে জড়িয়ে ‘যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দোসর আহমদ আলীর রূপ বদল’ শিরোনামে যে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টাই নয়, বরং একজন ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলিয়ে ফেলার একটি অসৎ প্রয়াস বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
এক লিখিত প্রতিবেদনে আহমদ আলী স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবি বা সাংগঠনিক পরিচয় তাঁর নেই। কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে তিনি কখনো সক্রিয় রাজনীতি করেননি এবং কোনো রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশও ছিলেন না। তাঁর মূল পরিচয় একজন ব্যবসায়ী হিসেবে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে তিনি নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি সামাজিক ও কমিউনিটি পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন।
ব্যবসায়িক ও সামাজিক যোগাযোগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, যুক্তরাজ্যে তাঁর একটি কমিউনিটি সেন্টার ব্যবসা রয়েছে। এই ব্যবসার স্বাভাবিক ও অপরিহার্য অংশ হিসেবেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, এমপি, মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁকে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়েছে। কোনো কমিউনিটি সেন্টারের ব্যবসা পরিচালনাকারী হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও কমিউনিটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা, অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করা, তাঁদের সঙ্গে ছবি তোলা কিংবা অনুষ্ঠানের স্মৃতি হিসেবে ছবি সংরক্ষণ করা অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়; বরং এটি সামাজিক ও ব্যবসায়িক যোগাযোগেরই স্বাভাবিক অংশ।
অথচ একটি প্রতিহিংসাপরায়ণ ও হীন স্বার্থান্বেষী মহল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগের কয়েকজন মন্ত্রী, এমপি কিংবা নেতার ছবি তুলে ধরে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে তিনি নাকি গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের ‘দোসর’ হিসেবে কাজ করেছেন। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধির সঙ্গে একটি ছবি থাকা কীভাবে একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক দলীয় পরিচয়ের প্রমাণ হতে পারে? কোনো ব্যবসায়ী যদি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি কিংবা সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বা কোনো অনুষ্ঠানে ছবি তোলেন, তাহলে শুধু সেই ছবির ভিত্তিতে তাঁকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মী বা দোসর হিসেবে চিহ্নিত করা কতটা যুক্তিসংগত?
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর সঙ্গে শুধু আওয়ামী লীগের নেতা, এমপি বা মন্ত্রীদেরই ছবি নয়, বরং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিএনপির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, এমপি, মন্ত্রী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গেও তাঁর অসংখ্য ছবি রয়েছে। তাঁর ব্যবসায়িক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শুধু আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে থাকা কিছু ছবি বাছাই করে প্রকাশ করা এবং তার ভিত্তিতে একটি রাজনৈতিক পরিচয় দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
একটি ছবিকে তার প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণ করা অত্যন্ত দায়িত্বহীন ও অনৈতিক বলে মনে করেন তিনি। ছবি একটি সাক্ষাতের বা অনুষ্ঠানে উপস্থিতির প্রমাণ হতে পারে; কিন্তু সেটি নিজে থেকে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক আনুগত্য, দলীয় সদস্যপদ কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ নয়।
কমিউনিটি সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মহলের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়টি অত্যন্ত স্বাভাবিক। কোনো অনুষ্ঠানে কোনো মন্ত্রী, এমপি বা রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত থাকলে ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁদের অভ্যর্থনা জানানো, সৌজন্য সাক্ষাৎ করা কিংবা ছবি তোলা মানেই তাঁর রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যাওয়া নয়। ব্যবসা ও সামাজিক সম্পর্ককে রাজনৈতিক আনুগত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলে দেশের অসংখ্য ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি সংগঠকের ক্ষেত্রেই একই ধরনের অপবাদ আরোপ করা সম্ভব।
অপপ্রচারকারীদের উদ্দেশ্যে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে আহমদ আলী বলেন—তাঁর আওয়ামী লীগের সদস্যপদ কোথায়? আওয়ামী লীগের কোনো পদে তিনি ছিলেন—এমন প্রমাণ কোথায়? কোনো দলীয় কমিটির দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন নথি কোথায়? দলীয় সভা-সমাবেশে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণের প্রমাণ কোথায়? আওয়ামী লীগের হয়ে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য কোথায়?
আজ যারা আওয়ামী লীগের নেতাদের ছবি তুলে ধরে তাঁকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন, তাদের কাছে বিএনপির নেতাদের ছবি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকা ছবিগুলোর ব্যাখ্যাও থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি। নিরপেক্ষভাবে বিষয়টিকে উপস্থাপন করতে চাইলে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট তুলে ধরা উচিত। শুধু একটি নির্দিষ্ট পক্ষের সঙ্গে থাকা ছবি বেছে নিয়ে একটি পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক গল্প তৈরি করা সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশ কিংবা জনস্বার্থ—কোনোটিরই সেবা করে না।
তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সমালোচনার অধিকারকে সম্মান জানান। তবে সেই স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা খণ্ডিত তথ্য ছড়িয়ে তাঁর সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে একটি ছবিকে তার প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে একজন নির্দলীয় ব্যবসায়ীকে রাজনৈতিক দলের ‘দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা রাজনৈতিক পরিচয় আরোপ করার আগে তথ্য যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। কারও সঙ্গে ছবি থাকা, কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা কিংবা সৌজন্য সাক্ষাৎ করাকে রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যদি সত্যিই কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকে, তাহলে অনুমান, গুজব কিংবা খণ্ডিত ছবি নয়—প্রমাণসহ তা উপস্থাপন করা হোক; তিনি তথ্যভিত্তিক যেকোনো প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত।
একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে সংবাদ বা মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ও পেশাগত নীতিমালা অনুসরণ করা উচিত। কারো কাছ থেকে কোনো অন্যায় সুবিধা গ্রহণ করে অপরের চরিত্র হননে লিপ্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কোনো পক্ষের সরবরাহ করা ছবি বা বক্তব্যকে যাচাই না করে প্রচার করা হলে একজন নির্দোষ মানুষের সামাজিক ও পেশাগত ক্ষতি হতে পারে। সংবাদমাধ্যমের শক্তি যেমন সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে পারে, তেমনি ভুল তথ্যের কারণে একজন মানুষের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনামও মুহূর্তের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কোনো সত্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কারও কাছে থাকলে তা জনসমক্ষে উপস্থাপন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনুমান, গুজব কিংবা খণ্ডিত ছবি দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণের অপচেষ্টা তিনি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছেন।
পরিশেষে স্পষ্ট করে আবারও জানানো হয়, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। একজন ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির সদস্য হিসেবে দল-মত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলছেন। সেই সামাজিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ককে বিকৃত করে চালানো অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এ ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। সত্য ও বাস্তবতা শেষ পর্যন্ত অপপ্রচারকে পরাজিত করবে এবং মানুষের বিচারবোধের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করার পাশাপাশি সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম রক্ষার স্বার্থে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকারও তিনি সংরক্ষণ করছেন।
সূত্র অর্থনীতি।
এস এম সোহাগ ফরাজী।