বিচারের অপেক্ষায় ১ বছর ১০ মাস: দারুস সালামে পোশাক শ্রমিক রোজিনা হত্যা মামলার আসামি স্বামী আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে
বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর দারুস সালামে নারী পোশাক শ্রমিক রোজিনা আক্তার (৩০) নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর দীর্ঘ এক বছর ১০ মাস অতিবাহিত হলেও অধরাই রয়ে গেছেন মামলার একমাত্র এজাহারনামীয় আসামি স্বামী মোঃ আলমগীর হোসেন (৪৩)। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে চরম শঙ্কা, নিরাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর অসহায় পরিবার।
ঘটনার বিবরণ ও মামলার পটভূমি
মামলার এজাহার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, কাজের সুবাদে পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার চরগরবদী গ্রামের রহিম ফরাজীর মেয়ে রোজিনা আক্তারের সঙ্গে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার তিতোপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাঁরা সামাজিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং দারুস সালামের ৩য় কলোনী, বসুপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় পারিবারিক কলহের জেরে গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখ রাত ২৩:৩০ ঘটিকা হতে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখ সকাল ০৬:০০ ঘটিকার মধ্যে যেকোনো সময় রোজিনাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন ঘরের মেঝেতে ক্ষতবস্থায় রোজিনার লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন নিহতের স্বজনরা। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সোহাগ ফরাজী বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১৬/২২৮, ধারা-৩০২, দণ্ডবিধি) দায়ের করেন।
মামলার আসামির পূর্ণাঙ্গ পরিচয়
অভিযুক্ত আসামি (স্বামী):
নাম: মোঃ আলমগীর হোসেন (৪৩)
পিতার নাম: মোঃ জমির উদ্দিন
মাতার নাম: ফিরোজা বেগম
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: তিতোপাড়া, ওয়ার্ড নং-৪, পোস্ট: নাসির মন্ডলহাট, থানা/উপজেলা: বোদা, জেলা: পঞ্চগড়।
বর্তমান ঠিকানা: বাসা নং-৬৫/সি, নিচ তলা, ৩য় কলোনী, বসুপাড়া, থানা: দারুস সালাম, জেলা: ঢাকা।
পুলিশি তদন্ত ও বিচারহীনতার ক্ষোভ
ঘটনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ মনির হোসেনকে। তবে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান কোনো বড় অগ্রগতি দেখাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভুক্তভোগী পরিবারের আকুল আবেদন
বোনের নির্মম হত্যার বিচার না পেয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করে মামলার বাদী ও নিহতের ভাই সোহাগ ফরাজী বলেন,
“আমার বোনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। অথচ দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও পুলিশ আসামির কোনো সন্ধান বের করতে পারল না। একজন সাধারণ পোশাক শ্রমিকের পরিবার বলেই কি আমাদের আকুতি কারো কান পর্যন্ত পৌঁছাবে না?”
তিনি আরও যুক্ত করে বলেন,
“বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশ প্রদান করে যেন দ্রুত ঘাতক আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়। আমরা সুবিচারের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে, দীর্ঘ সময়েও মূল আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলেও চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং রোজিনা হত্যা মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
এস এম সোহাগ ফরাজী