গাজীপুরে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক স্বামী বরিশাল থেকে গ্রেফতার
দৈনিক জীবনযাত্রা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬
গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার পালেরপাড়া এলাকায় মিম আক্তার (২৮) নামের এক গৃহবধূকে ঘুমন্ত অবস্থায় নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের স্বামী মো. আলম হোসেন (২৯)-কে বরিশাল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে গাজীপুর জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রকিবুল আক্তার এ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন।
জুয়ার টাকা ও পারিবারিক কলহের জের
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, প্রায় ছয় বছর আগে পোশাক শ্রমিক মিম আক্তারের সাথে অটোরিকশা চালক আলম হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৩ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। আলম দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও জুয়ায় আসক্ত ছিলেন।
গত ২৫ জুলাই মিম তাঁর বেতনের ৫ হাজার টাকা ঘরের ড্রয়ারে রেখেছিলেন। ২৭ জুলাই রাতে আলম স্ত্রী না জানিয়ে সেই টাকা দিয়ে জুয়া খেলে পুরো টাকা হেরে যান। পরদিন মিম ওষুধ কেনার জন্য টাকা না পেয়ে স্বামীকে চাপ দিলে আলম টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এ নিয়ে ঝগড়া হলে আলম ও তার মা জাহানারা বেগম (৪৭) মিলে মিমকে মারধর করেন। পরে স্বজনদের মধ্যস্থতায় মিম ঘরে ফিরে আসেন।
পরবর্তীতে ২৮ জুলাই ভোর আনুমানিক ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে মিম ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আলম হোসেন ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথা ও কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
বরিশালের লঞ্চঘাট থেকে গ্রেফতার
ঘটনার পর বাসন থানায় মামলা (মামলা নং-৫১) দায়ের হলে পিবিআই গাজীপুর তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম জামানের নেতৃত্বে পিবিআই-এর একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৩০ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বরিশালের কোতোয়ালি থানাধীন লঞ্চঘাট এলাকা থেকে অভিযুক্ত আলমকে গ্রেফতার করে।
গাজীপুর জেলা পিবিআই প্রধান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রকিবুল আক্তার জানান, “মাদক ও জুয়ার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃত আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী।