জগন্নাথপুরের আলোচিত সেলিম হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ৮ জন পঞ্চগড়ে গ্রেফতার
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, সিলেট প্রতিনিধি। দৈনিক জীবন যাএা।
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে তোলপাড় সৃষ্টি করা আলোচিত ‘সেলিম মিয়া’ হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ এজাহারনামীয় ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সুদূর পঞ্চগড় জেলা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ (সুনামগঞ্জ) এবং র্যাব-১৩ (সিপিসি-২, নীলফামারী)-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থানাধীন তেঁতুলিয়া ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়
গ্রেফতারকৃতরা সকলেই সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার উত্তর গড়গড়িকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন:
১. মোঃ কাজল মিয়া (৪০), পিতা- আব্দুর রাজ্জাক (এজাহারনামীয় ১ নং আসামি)
২. মোঃ দুলাল মিয়া (৩৮), পিতা- আব্দুল জব্বার (২ নং আসামি)
৩. হিরন মিয়া (৪৪), পিতা- মৃত আব্দুল সাত্তার
৪. রাজিক মিয়া (৩৯), পিতা- মৃত আব্দুল সাত্তার
৫. ফুল মিয়া (৩০), পিতা- আব্দুর রাজ্জাক
৬. আতিক মিয়া (৩৪), পিতা- মৃত আব্দুল সাত্তার
৭. আশিক মিয়া (৩৭), পিতা- মৃত আব্দুল সাত্তার
৮. রাজু মিয়া (২৪), পিতা- হিরন মিয়া
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড
মামলা ও ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ভিকটিম সেলিম মিয়া এবং আসামিরা একই গ্রামের বাসিন্দা। গত ১০ জুলাই সকাল ৮টার দিকে সেলিম মিয়া তার চাচা জমির আলী ও ভাইদের সঙ্গে মাঠে ধানের বীজ রোপণের কাজ করছিলেন। এ সময় ২নং আসামি দুলাল মিয়ার একটি গরু তাদের বীজের ঝুড়িতে মুখ দিলে দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটি হয়। এর দুই দিন আগেও দুলাল মিয়ার গরু জমির আলীর ২০/২৫টির মতো কদম গাছের চারা নষ্ট করেছিল।
তর্কাতর্কির একপর্যায়ে দুলাল মিয়া বাড়িতে গিয়ে অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে লাঠি, সুলফি ও ড্যাগারসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘটনাস্থলে এসে হামলা চালায়। তাদের এলোপাতাড়ি কোপ ও আঘাতে মারাত্মক জখম হন সেলিম মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলিম মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাবের ছায়া তদন্ত ও গ্রেফতার
ঘটনার পর নিহতের ভাই বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১১, তারিখ: ১২/০৭/২০২৬) দায়ের করেন। ঘটনাটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করায় র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে নীলফামারী র্যাব-১৩-এর সহযোগিতায় পঞ্চগড় থেকে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
আসামিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
এস এম সোহাগ ফরাজী ।