জকিগঞ্জে মেয়েকে নিতে গিয়ে শ্বশুরবাড়িতে উত্তেজনা, শাশুড়ির মৃত্যু: পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬
সিলেটের জকিগঞ্জে প্রায় দেড় বছর ধরে নানা বাড়িতে থাকা ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে নিজ হেফাজতে নিতে গিয়ে শ্বশুরবাড়িতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন হাসনা বেগম (৬৫) নামের এক নারী। তিনি উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের উত্তরকুল গ্রামের মৃত আব্দুল মুমিনের স্ত্রী।
রোববার (২৬ জুলাই) সকালে উপজেলার উত্তরকুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবার মারধরের কারণে মৃত্যুর অভিযোগ তুললেও তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মেয়েটির বাবা। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
ঘটনার পটভূমি ও উত্তেজনার সৃষ্টি
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে মাওলানা ফুজায়েল আহমদের ১৪ বছর বয়সী মেয়ে বাবার বাড়ি ছেড়ে উত্তরকুল গ্রামে নানা বাড়িতে চলে আসে এবং সেখানে বসবাস শুরু করে। রোববার সকালে ফুজায়েল আহমদ মেয়েকে ফিরিয়ে নিতে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ ও তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে হাসনা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ
নিহতের মেয়ে হান্না বেগম ও নাসিমা বেগম অভিযোগ করেন, নিজের মেয়ের প্রতি অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠার পর কিশোরীটি নানা বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। রোববার সকালে কয়েকজন বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে জোরপূর্বক মেয়েকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁর বাবা। এ সময় বাধা দিলে মারধরের শিকার হন হাসনা বেগম এবং পরে তিনি মারা যান। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে নিহতের পরিবার।
অভিযোগ অস্বীকার ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে মাওলানা ফুজায়েল আহমদ বলেন, “আমার শাশুড়ির ওপর কোনো হামলা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি। একটি কবিরাজী চক্রের প্রভাবে মেয়েকে আটকে রাখা হয়েছিল, যা নিয়ে আগে পুলিশ প্রশাসনকেও জানিয়েছিলাম। মেয়েকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাড়ি ফেরার পর শাশুড়ির মৃত্যুর খবর পাই।”
ফুজায়েল আহমদের স্ত্রী মরিয়ম আক্তারও স্বামীর দাবি সমর্থন করে জানান, সেখানে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী ও বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী টিপু জানান, দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা তৈরি হলেও কোনো হাতাহাতি বা মারধরের দৃশ্য তারা দেখেননি। মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই হাসনা বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান।
পুলিশি পদক্ষেপ
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর মূল কারণ উন্মোচিত হবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দৈনিক জীবন যাএা
এস এম সোহাগ ফরাজী