লক্ষ্মীপুরে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার, পাঠানো হলো কারাগারে
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি | দৈনিক জীবনযাত্রা:
লক্ষ্মীপুরে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত অধ্যক্ষের নাম মো. আবদুল আহাদ (৪৫)। তাঁর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে তাঁকে লক্ষ্মীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাঁকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি গিয়ে স্বজনদের অবহিত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে মাদ্রাসার ভেতর ওই শিক্ষার্থী বর্বরোচিত ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার পর রোববার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাদ্রাসা থেকে কৌশলে পালিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যায় এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি খুলে বলে।
বিষয়টি জানার পর রাত প্রায় ৯টার দিকে ভুক্তভোগী ছাত্রের মা ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনগণ মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আবদুল আহাদকে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন। খবর পেয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। রোববার রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা নিশ্চিত
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রব জানান, প্রাথমিক তদন্তে ওই ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সুনির্দিষ্ট মামলা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান,
“অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মো. আবদুল আহাদকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। তাঁরা অভিযুক্ত অধ্যক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।