হাতীবান্ধায় ৩ জনকে আহত করা ভারতীয় চিতাবাঘের হদিস মেলেনি ৫ দিনেও: মাঠপর্যায়ের অভিযান সমাপ্ত বন বিভাগের, সতর্কতায় বিজিবি
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি (মিলন কুমার):
ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে এক নারীসহ তিনজনকে ক্ষতবিক্ষত করা সেই চিতাবাঘটির সন্ধান পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও মেলেনি। দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্ত জনপদে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তল্লাশি চালিয়েও প্রাণীটির কোনো হদিস বা বর্তমান উপস্থিতি নিশ্চিত করতে না পারায় মাঠপর্যায়ের অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেছে বন বিভাগের বিশেষ টিম ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ দল। তবে সীমান্তবাসীর সার্বিক নিরাপত্তায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গত সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারি এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা চিতাবাঘটিকে প্রত্যক্ষ করার দাবি করেন। এ খবর বিদ্যুৎবেগে ছড়িয়ে পড়লে সংলগ্ন আমঝোল, সিঙ্গিমারিসহ পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ সীমান্ত গ্রামগুলোতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জানমালের নিরাপত্তায় স্থানীয় তরুণ ও যুবকরা রাত জেগে লাঠিসোঁটা ও শক্তিশালী টর্চলাইট নিয়ে এলাকায় পাহারা বসান।
সীমান্তে অতর্কিত আক্রমণ ও আহত ৩:
এর আগে গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তের ৯০৫ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের কাছাকাছি এলাকায় ভারতীয় বনভূমি থেকে আসা বন্যপ্রাণীটির অতর্কিত আক্রমণের শিকার হন স্থানীয় তিন বাসিন্দা।
আহতরা হলেন—আমঝোল গ্রামের শরিফা বেগম (৩৪), নজরুল ইসলাম (৪৩) ও আফসার আলী (৪০)। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করেন।
ড্রোন ও থার্মাল ইমেজিং দিয়েও মেলেনি হদিস:
ঘটনার পরপরই বন্যপ্রাণীটিকে অক্ষত অবস্থায় চিহ্নিত ও উদ্ধার করতে বন বিভাগ, বিজিবি, পুলিশ এবং ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল যৌথ অভিযান শুরু করে। তল্লাশিতে অত্যাধুনিক ড্রোন ক্যামেরা ও রাতের আঁধারে শনাক্তে সক্ষম থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তি কাজে লাগানো হয়।
টানা কয়েক দিনের অনুসন্ধানে উপজেলার কয়েকটি ঝোপঝাড় ও চরাঞ্চলে বন্যপ্রাণীর পদচিহ্ন লক্ষ্য করা গেলেও সেটি সুনির্দিষ্টভাবে ওই চিতাবাঘের কি না, তা বিশেষজ্ঞরা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেননি।
প্রশাসন ও বিজিবির বক্তব্য:
অভিযানের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র জানান, অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে টানা পাঁচ দিন সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে। তবে প্রাণীটির কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা উপস্থিতির প্রমাণ আর না পাওয়ায় বন বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদের দুটি দল বৃহস্পতিবার তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সমাপ্ত করে ফিরে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রাণীটি হয়তো পুনরায় ভারতীয় ভূখণ্ডের গভীর জঙ্গলে ফিরে গেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের অযথা আতঙ্ক দূর করতে ও সচেতনতা বাড়াতে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মাইকিং অব্যাহত রাখা হয়েছে। কোথাও যদি সন্দেহজনক পায়ের ছাপ বা বন্যপ্রাণীর গতিবিধি নজরে আসে, তবে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে কিংবা আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবির নিয়মিত টহল ও বিশেষ নজরদারি সার্বক্ষণিক জোরদার রাখা হয়েছে। বর্তমানে পুরো সীমান্ত জনপদে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
দৈনিক জীবনযাত্রা