‘ভাই আমাকে বাঁচান’ বলা লোকটিকে আর বাঁচানো গেলো না: তেজগাঁওয়ে দিনদুপুরে ছুরিকাঘাতে হত্যা
স্টাফ রিপোর্টার | দৈনিক জীবনযাত্রা:
রাজধানীর তেজগাঁও রেলগেট এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তদের বর্বরোচিত ছুরিকাঘাতে অজ্ঞাতপরিচয় (৫০) এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করতে করতে পথচারীর কাছে “ভাই আমাকে বাঁচান, আমি মরে যাচ্ছি” বলে আকুতি জানালেও শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর।
আজ রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
“ভাই আমাকে বাঁচান, আমি মরে যাচ্ছি”
নিহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী আব্দুর রহমান জানান, আজ দুপুর পৌনে ৩টার দিকে তিনি বিমানবন্দর যাওয়ার উদ্দেশ্যে তেজগাঁও রেলগেট এলাকা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ তিনি দেখতে পান এক ব্যক্তি রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে আছেন।
আব্দুর রহমান কাছে এগিয়ে গেলে ওই রক্তাক্ত ব্যক্তি অত্যন্ত আকুল কণ্ঠে ডাক দিয়ে বলেন,
“ভাই আমাকে বাঁচান, আমি মরে যাচ্ছি। আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।”
এই মানবিক ডাকে সাড়া দিয়ে আব্দুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে সিআইডি
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ওই ব্যক্তির নাম বা বিস্তারিত পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। তাঁর পরনে কী ছিল বা তিনি কোথা থেকে এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোঃ ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,
“ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হওয়া ওই ব্যক্তির মরদেহ বর্তমানে জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও সিআইডি-র (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) ক্রাইম সিন টিমকে অবহতি করেছি। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ও আঙুলের ছাপের (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) সহায়তায় খুব দ্রুতই তাঁর নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হবে।”
দিনদুপুরে তেজগাঁওয়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পেছনে ছিনতাইকারী নাকি পূর্ব শত্রুতা রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
এস এম সোহাগ ফরাজী।