রাজধানীর দারুস সালামে ডিবি পুলিশের অভিযান: ১২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্টার | দৈনিক জীবনযাত্রা
প্রকাশ: ০৯ জুলাই, ২০২৬
ঢাকা: রাজধানীর দারুস সালাম এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ দুই পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবি মতিঝিল বিভাগের একটি চৌকস আভিযানিক দল তল্লাশি চালিয়ে তাদের হেফাজত থেকে ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে। একই সাথে মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত দুটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে দারুস সালাম থানাধীন গাবতলী-সাভার টু টেকনিক্যাল মহাসড়ক এলাকায় এই ঝটিকা অভিযানটি পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. আরিফ মিয়া (২০) ও মো. আমির হামজা (১৯)। রাতেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার গাঁজা জব্দ
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি মতিঝিল বিভাগের একটি বিশেষ দল দারুস সালাম সংলগ্ন মহাসড়ক এলাকায় অবস্থান নেয়। সন্দেহভাজন দুই যুবককে তল্লাশি করার সময় তাদের কাছে থাকা ব্যাগ থেকে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত এই বিশাল মাদকের চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ঢাকার বাইরের সীমান্তবর্তী জেলা থেকে এই মাদকের চালানটি রাজধানীতে বড় কোনো চক্রের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মহাসড়ক ব্যবহার করে চলত চোরাচালান
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা অনুসন্ধানে গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারিরা পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তারা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের যোগসাজশে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক সংগ্রহ, পরিবহন ও পাইকারি-খুচরা বিক্রি করে আসছিল। গাবতলী ও টেকনিক্যাল এলাকাটি ঢাকার প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় এই রুটটিকেই তারা মাদক চোরাচালানের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিল।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। এই মাদক সিন্ডিকেটের পেছনে আর কারা অর্থায়ন করছে এবং এই চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে ডিবি পুলিশের গোয়েন্দা তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী