আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম ও পিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় জিডি
ঢাকা প্রতিনিধি:
জুলাই আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে সাংবাদিক আনিস আলমগীর, উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম, মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাতে শাহবাগ থানায় জিডিটি দায়ের করা হয়। রোববার (৫ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম।
পুলিশ জানায়, রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম নামের একটি সংগঠনের সদস্য মিল্লাত হোসেন এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফ আলীকে।
পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম জানান, অভিযোগটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন পোস্ট ও সাইবার কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে হওয়ায় তদন্তের স্বার্থে এটি পুলিশের সংশ্লিষ্ট সাইবার ইউনিটে পাঠানো হতে পারে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতামত ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জিডিতে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— সাংবাদিক আনিস আলমগীর, উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম, মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলামিস্ট মোমিন মেহেদী, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং মডেল ও অভিনেত্রী তুষ্টি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জামিনে থাকা সাংবাদিক আনিস আলমগীর কারামুক্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ডে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ ডায়েরি দায়েরের অর্থ এই নয় যে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, ডিজিটাল আলামত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ এ বিষয়ে নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার-সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রমাণ, তথ্যের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টের প্রেক্ষাপট যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ সম্ভব।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, ডিজিটাল তথ্য এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত আলামত সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
দৈনিক জীবন যাএা
এস এম সোহাগ ফরাজী