দাখিল-ইবতেদায়িতে কওমি সনদধারীদের শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ বাতিলের দাবি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দাখিল ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসার কুরআন শিক্ষকের পদে কওমি সনদধারীদের নিয়োগের সুযোগ প্রদান সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সরকারি প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। দলটির দাবি, এ সিদ্ধান্ত দেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে সংকটের মুখে ঠেলে দেবে এবং শিক্ষার মান ও ন্যায়নীতির পরিপন্থী।
শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন এবং মহাসচিব অধ্যক্ষ স.উ.ম আবদুস সামাদ এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, স্বীকৃত কারিকুলাম, একাডেমিক মূল্যায়ন ও জবাবদিহিতার আওতায় পরিচালিত আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন কাঠামোর কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে সমপর্যায়ে বিবেচনা করে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ প্রদান শিক্ষানীতি, ন্যায়নীতি ও শিক্ষাগত মানদণ্ডের পরিপন্থী। তাদের ভাষ্য, কোনো স্বাধীন মূল্যায়ন, শিক্ষাগত সক্ষমতা যাচাই কিংবা জাতীয় মান নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশ ছাড়াই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা অনিশ্চিত সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা সরকারি তত্ত্বাবধান, বোর্ড পরীক্ষা, নির্ধারিত পাঠ্যক্রম ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। অন্যদিকে কওমি মাদ্রাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক নিরীক্ষা, একাডেমিক মান যাচাই ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার বাইরে পরিচালিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় কওমি সনদধারীদের সরকারি ও আধা-সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার সুযোগ দেওয়া হলে দেশের শিক্ষা কাঠামো দুর্বল হবে এবং শিক্ষার মান নিয়ে নতুন প্রশ্ন সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেন তারা।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিগত সরকারের সময়ে সরকারি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কওমি দাওরায়ে হাদিস সনদকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ার সিদ্ধান্তও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সেই বিতর্কের নিষ্পত্তি না হতেই আবারও কওমি সনদধারীদের শিক্ষক নিয়োগে অন্তর্ভুক্ত করা থেকে বোঝা যায়, শিক্ষাখাতে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনার পরিবর্তে সরকার রাজনৈতিক সমীকরণকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট কওমি শিক্ষা বা ধর্মীয় শিক্ষার বিরোধিতা করে না। তবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, নিয়োগ ও শিক্ষাগত সমমর্যাদার ক্ষেত্রে সকল শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একই মানদণ্ড, একই জবাবদিহিতা এবং একই মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় শিক্ষিত বেকার যুবসমাজের মধ্যে বৈষম্য, অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে।
বিবৃতিতে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গভাবে রাষ্ট্রীয় মাননিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনা, অভিন্ন শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে নেতৃদ্বয় সতর্ক করে বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, মাদ্রাসা শিক্ষার মান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ উপেক্ষা করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশসহ প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।
দৈনিক জীবন যাএা
এস এম সোহাগ ফরাজী