আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরায়ণের যুগে সিলেট: সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) আনুষ্ঠানিক যাত্রা, প্রথম পর্ষদ সভা সম্পন্ন
সিলেট ব্যুরো / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: আধ্যাত্মিক ও পর্যটন নগরী সিলেটকে আধুনিক, বাসযোগ্য, সবুজ ও পরিকল্পিত এক মডেল মেগাসিটিতে রূপান্তরের দৃঢ় প্রত্যয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক যাত্রার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রথম পর্ষদ সভা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টায় নগরীর নাইওরপুলস্থ কর্তৃপক্ষের অস্থায়ী কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ ঐতিহাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিলেটের ভবিষ্যৎ সুপরিকল্পিত নগরায়ণ, দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) প্রণয়ন এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড গতিশীল করার বিষয়ে বিস্তারিত নীতিনির্ধারণী আলোচনা সম্পন্ন হয়।
পর্ষদ সভার নেতৃত্ব ও উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী পরিচালক সাদি উর রহিম জাদিদের সঞ্চালনায় এ সভায় অংশ নেন শীর্ষস্থানীয় নগর পরিকল্পনাবিদ, গবেষক ও উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন—
কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, বীরপ্রতীক (সদস্য, সিউক ও সাবেক চেয়ারম্যান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ)
স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ জারিনা হোসেন (সদস্য, সিউক)
ইঞ্জিনিয়ার ইলিয়াস আহমেদ (সদস্য-প্রকৌশল, সিউক)
মোবারক হোসেন মাসুদ রানা (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক-সার্বিক, সিলেট)
গৌতম দেব (উপ-পুলিশ কমিশনার-প্রতিনিধি, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ)
অধ্যাপক ড. মো. শাহীদুর রহমান (সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, শাবিপ্রবি)
তানভীর হাসান (ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান, স্থাপত্য বিভাগ, শাবিপ্রবি)
সুব্রত দাস (সহযোগী অধ্যাপক, স্থাপত্য বিভাগ, শাবিপ্রবি)
অংশুমান ভট্টাচার্য্য (নির্বাহী প্রকৌশলী, সিলেট সিটি করপোরেশন)
মো. আবু জাফর (নির্বাহী প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সিলেট)
পিংকি সাহা (প্রতিনিধি, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি) সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাবৃন্দ।
মাস্টারপ্ল্যান ও অগ্রাধিকার খাত নিয়ে আলোচনা
সভায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা সিলেটের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, তীব্র যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে আধুনিক ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক তৈরি, পরিবেশবান্ধব সবুজায়ন ও সুপরিকল্পিত আবাসন সংকট নিরসনে বিভিন্ন কৌশলগত মতামত তুলে ধরেন।
সভায় সর্বসম্মতভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত, টেকসই ও ভবিষ্যৎমুখী মাস্টারপ্ল্যান তৈরির ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার আরোপ করা হয়। অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ ও নগরায়ণ রোধে কঠোর আইনি নজরদারির রূপরেখাও তুলে ধরা হয়।
পর্ষদ সভার সমাপনী বক্তব্যে চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সংস্থার প্রথম পর্ষদ সভার মধ্য দিয়েই সিলেটের পরিকল্পিত বিকাশের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। সবার সমন্বিত সহযোগিতায় সিলেটকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিকল্পিত ও নাগরিকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই সিউকের মূল লক্ষ্য।
এস এম সোহাগ ফরাজী