জামায়াত-এনসিপি সরকারের আস্তিনের সাপ : মোমিন মেহেদী
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২৫ জুন ২০২৬
নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, বর্তমান সংসদে বিরোধী দল সেজে থাকা ১১ দলীয় জোটের সকল দলের মত জামায়াত-এনসিপি বিএনপি সরকারের আস্তিনের সাপ। এই সাপকে এখনই ধ্বংস না করলে দংশনে সরকারের শরীর বিশে নীল হয়ে যাবে। ট্রাম্প বা বিশ্বের কোনো বড় ওঝা সেই বিষ নামাতে পারবে না। সাংবাদিকদের উপর হামলাই প্রমাণ করে- জামায়াত দেশে শান্তি-সমৃদ্ধি-কল্যাণ চায় না, কেবল ক্ষমতা চায়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘ধর্ম পালন ও বাক স্বাধীনতায় বাঁধার প্রতিবাদে’ অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
মোমিন মেহেদী বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যার মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামী একাত্তরে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে চেয়েছিল। সেই জামায়াতে ইসলামী এখন নির্মমভাবে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালাচ্ছে, গণমাধ্যম দখল করছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিতে নেপথ্য নায়কের ভূমিকা রাখছে এবং দেশে ইসলামের নামে মওদুদীধর্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ক্ষমতায় আসতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা কিছু নামকাওয়াস্তে ধর্মীয় রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে দেশে সহিংসতা বাড়াচ্ছে এবং ধর্মীয় দাঙ্গা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আইনিভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও দেশবিরোধী জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করাই বিএনপি সরকারের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অন্যথায় এর খেসারত ভয়াবহ হতে পারে।
সমাবেশে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির প্রেসিডিয়াম মেম্বার গাজী মনসুর, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক হরিদাস সরকার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মন্ডল, হাশেম মোল্লা, অরবিন্দ দেবনাথ, জাতীয় সাংস্কৃতিকধারার সদস্য গীতিকার বিএন রুবেল, কণ্ঠশিল্পী জোবায়ের ও সমিরণ দেবনাথসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, দেশে লক্ষ লক্ষ মসজিদের পাশাপাশি সকল ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকুক, তবে বাংলাদেশকে কোনোভাবেই প্রদেশে বিভক্ত করার পক্ষে তারা নন। তারা ভারতকে বন্ধু হিসেবে দেখেন, তবে প্রভু বা মালিক হিসেবে নয়। এ প্রসঙ্গে তারা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক নেতাদের বাংলাদেশ নিয়ে ‘উল্টাপাল্টা মন্তব্য’ না করার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে নতুনধারা নেতৃবৃন্দ সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে ‘ধর্ম সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে ‘ধর্ম সুরক্ষা আইন’-এ অন্তর্ভুক্তির জন্য কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— কোনো ধর্মের স্রষ্টা, নবী, অবতার বা ধর্মীয় গ্রন্থ নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান, ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙচুরের বিরুদ্ধে কঠোর দণ্ড, ধর্মের অপব্যাখ্যার শাস্তি এবং ওয়াজ মাহফিলে নারী বিদ্বেষী ও সংঘাত সৃষ্টিকারী বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান।
নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং সকল ধর্মাবলম্বীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এ আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।