নগাঁওয়ে শিশু সুরক্ষা ও কিশোরী সবলীকরণ কার্যক্রমে ইউনিসেফের প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ
নগাঁও প্রতিনিধি:
শিশু কল্যাণ, সুরক্ষা এবং কিশোরীদের সবলীকরণের লক্ষ্যে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক জরুরি শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) ইন্ডিয়া এবং ইউনিসেফ আসাম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জ্যেষ্ঠ শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে নগাঁও জেলায় এক বিশেষ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।
শিশু কল্যাণ ও সুরক্ষা খাতে কর্মরত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রতিনিধি দলটি অংশ নেয়।
সভা শেষে ইউনিসেফ ইন্ডিয়ার শিশু সুরক্ষা শাখার মুখ্য কর্মকর্তা শ্রীমতী মিলন কিদানের নেতৃত্বে একটি দল রাহা সংহত শিশু উন্নয়ন সেবা প্রকল্পের অন্তর্গত দেবগুড়ি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পরিদর্শন করে। এ সময় অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত (মহিলা ও শিশু উন্নয়ন বিভাগ) কমলজিৎ শর্মা, জেলা সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা ভোলানাথ পেগুসহ ইউনিসেফের কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা মহিলা সবলীকরণ কেন্দ্রের দল, পর্যবেক্ষক এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রটিতে কিশোরী সহায়তা গোষ্ঠীর দুটি দলের সদস্যরা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি “জীবন নদী” (River of Life) শীর্ষক একটি অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্যসমূহ উপস্থাপন করেন। এ কার্যক্রমে নগাঁও জেলা মহিলা সবলীকরণ কেন্দ্রের লিঙ্গভিত্তিক বিশেষজ্ঞ শ্রীমতী জনপ্রিয়া কলিতা এবং খণ্ড পর্যবেক্ষক পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে প্রতিনিধি দলটি রাহা উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত বন্যা সহায়তা শিবির পরিদর্শন করে পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা গ্রহণ করে। পরিদর্শনকালে ইউনিসেফ ইন্ডিয়ার শিশু সুরক্ষা শাখার মুখ্য কর্মকর্তা শ্রীমতী মিলন কিদান, অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত কমলজিৎ শর্মা, জেলা সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা ভোলানাথ পেগু, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্র কর্মকর্তা এবং জেলা মহিলা সবলীকরণ কেন্দ্রের দলের উপস্থিতিতে শিবিরে বিদ্যমান অত্যাবশ্যকীয় সুবিধাসমূহ, শিশু সুরক্ষার সামগ্রিক ব্যবস্থা এবং বিশেষ করে শিশু ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য প্রদত্ত বিশেষ সহায়তা সেবাসমূহ পর্যালোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শিশু সুরক্ষা, কিশোরী উন্নয়ন এবং দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে ইউনিসেফ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।