মেয়ে হওয়াটাই অপরাধ নয়, সমস্যাটা কিছু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে’ — মিতু আক্তার
নারীকে ঘিরে সামাজিক কটূক্তি, অবমূল্যায়ন ও নেতিবাচক মানসিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক মিতু আক্তার। নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের সমালোচনা করেন এবং সম্মানজনক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মিতু আক্তার বলেন, একজন মেয়ে হিসেবে জন্ম নেওয়া তার পরিচয়ের একটি অংশ মাত্র। প্রকৃতিগতভাবে নারী ও পুরুষের মধ্যে কিছু শারীরিক ও মানসিক পার্থক্য থাকলেও সেই ভিন্নতা কখনো অপমান, কটূক্তি কিংবা অবমূল্যায়নের কারণ হতে পারে না।
তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার পর থেকে প্রশংসার পাশাপাশি অসংখ্য নেতিবাচক মন্তব্যেরও মুখোমুখি হয়েছেন। তবে সমালোচনার ভয়ে তিনি কখনোই তার কোনো পোস্টের মন্তব্যের ঘর (কমেন্ট সেকশন) বন্ধ করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না বলে জানান।
তার ভাষায়, “আমি বিশ্বাস করি মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের সুযোগ থাকা উচিত। যদি আমার কোনো ভুল থাকে, আমি তা শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু যারা একজন মেয়ের শরীর নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে বা অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করে, তাদেরও নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করা উচিত।”
নারীদের পোশাককে কেন্দ্র করে যে নানা ধরনের মন্তব্য করা হয়, সে প্রসঙ্গেও কথা বলেন মিতু আক্তার। তিনি বলেন, অনেকেই দাবি করেন খোলামেলা চলাফেরার কারণে নারীরা কটূক্তির শিকার হন। কিন্তু বাস্তবে পর্দানশীল ও সাধারণ জীবনযাপনকারী নারীরাও অপমান ও হয়রানির শিকার হন। ফলে সমস্যার মূল কারণ পোশাক নয়, বরং কিছু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি।
তিনি আরও বলেন, “যদি শুধুমাত্র মেয়ে হয়ে জন্মানোই অপরাধ হয়, তাহলে সেই প্রশ্ন আমাদের নয়; প্রশ্নটা সৃষ্টিকর্তার কাছেই চলে যায়। কারণ তিনিই আমাকে এভাবেই সৃষ্টি করেছেন।”
নিজের লক্ষ্য ও স্বপ্ন পূরণের পথে সব বাধা অতিক্রম করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মিতু আক্তার বলেন, সমালোচনা ও প্রতিবন্ধকতা থাকলেও তিনি থেমে যাবেন না। পরিশ্রম, ধৈর্য এবং মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তিনি সামনে এগিয়ে যেতে চান।
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।