আজকের রাতটায় মায়ের ছোট্ট বাবাটা কই?’: কুমিল্লায় খুন হওয়া স্কুলছাত্র অপ্রতিমকে নিয়ে ঢাবি শিক্ষিকা মোনামীর হৃদয়স্পর্শী স্ট্যাটাস
জাতীয় ডেস্ক / ঢাকা: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী অপ্রতিমের লালমাই পাহাড়ে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সন্তানহারা এক মায়ের শূন্যতা ও বুকফাটা হাহাকার ছুঁয়ে গেছে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে। এই হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন ও মর্মস্পর্শী বার্তা প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামী।
শনিবার রাতে নিজের সন্তানের খুনসুটি ও জেগে থাকার মুহূর্তের সাথে নিহত অপ্রতিম ও তার মায়ের মাতৃত্বের স্মৃতিকে মিলিয়ে গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
‘আজকের রাতটায় মায়ের ছোট্ট বাবাটা কই?’
সামাজিক মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ঢাবি শিক্ষিকা শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামী লেখেন:
“রাত বাজে ১১টা।
আমার ছেলের ঘুম নাই।
কত কথা
কত প্রশ্ন
কত হাসি ঠাট্টা…
আমি ভাবি,
আহারে আহারে
এমন তো কত রাত অপ্রতিম তার মায়ের সাথে হাসাহাসি করে, আড্ডা দিয়ে কাটিয়েছে।
আজকের রাতটায় মায়ের ছোট্ট বাবাটা কই?”
একজন মা হিসেবে আরেক মায়ের কোল খালি হওয়ার এই নির্মম যন্ত্রণা ও অপূরণীয় ক্ষতি যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে সবাইকে। সন্তান হারানোর এ শোকাবহ রাতে ড. নাহিদা বেগমের শূন্য কোল এবং অপ্রতিমের ফেলে যাওয়া স্মৃতির কথা স্মরণ করে বহু নেটিজেনও মন্তব্য ঘরে তাঁদের ক্ষোভ ও চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি।
নেপথ্যের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম। নিখোঁজের একদিন পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের গহিন জঙ্গল থেকে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক সমাজ।
এস এম সোহাগ ফরাজী