বিয়ানীবাজারে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আপন চাচার বিরুদ্ধে: থানায় মামলা, অভিযুক্ত পলাতক
সিলেট ও বিয়ানীবাজার ব্যুরো / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: সিলেটের বিয়ানীবাজারে ১১ বছর বয়সী পঞ্চম শ্রেণির এক মাদ্রাসা/স্কুলপড়ুয়া ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার আপন চাচার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে মামলার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্ত চাচা।
ঘটনাটি ঘটেছে বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের খশির নয়াবাড়ি গ্রামে। অভিযুক্তের নাম হাছান আহমদ (৪০)। সে ওই গ্রামের মৃত আপ্তাব আলীর ছেলে এবং পেশায় একজন প্রাইভেটকার চালক।
ঘরে ডেকে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কর্মরত থাকায় শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে বাড়িতেই বসবাস করত। গত ৮ আগস্ট আসরের নামাজের সময় অভিযুক্ত হাছান আহমদ শিশুটিকে ফুসলিয়ে তার ছোট ভাইয়ের ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে একা পেয়ে সে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।
ঘটনার পর শিশুটি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন শেষে গত ১১ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
দেরিতে মামলার কারণ ও পরিবারের আর্তি
ঘটনার প্রায় এক মাস পর মামলা করার বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুর আপন চাচা হওয়ায় এবং পুরো বিষয়টি একই পরিবারের অভ্যন্তরীণ হওয়ায় আমরা প্রথমে দিশাহারা হয়ে পড়েছিলাম। তাছাড়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মেয়ের চিকিৎসা ও হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করতেই বেশ কিছুটা সময় পেরিয়ে যায়। আমার অবুঝ মেয়ের বয়স মাত্র ১১ বছর। আমি কোনো আপস চাই না, নরপশু চাচার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে স্থানীয় কুড়ারবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান তোতা এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মালিক জানান, ঘটনাটি লোকমুখে তারা শুনেছেন; তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ বা বিষয়টি জানানো হয়নি।
আসামি গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিম।
তিনি জানান, ভুক্তভোগীর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং তার জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত হাছান পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারে প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।
এস এম সোহাগ ফরাজী